ফুটবল

ইংল্যান্ডের বিতর্কিত গোল নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: প্রযুক্তি বনাম ফিফার দাবি

লন্ডন, ১২ জুলাই – ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোলটি নিয়ে এক নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহামের গোলে ইংল্যান্ড সমতায় ফিরলেও সেই গোলের নেপথ্যে থাকা আক্রমণ তৈরির সময় বলটি মাঠের ওপর ঝুলন্ত ক্যামেরায় লেগেছিল বলে রিপ্লেতে দেখা যায়।

ম্যাচ অফিশিয়ালদের নজর এড়িয়ে যাওয়া এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নল্যান্ডের একটি গোল কিক থেকে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় যে বাতাসে ভাসমান বলটি মাঠের ওপর থাকা স্পাইডার ক্যামেরার তারে আঘাত করে দিক পরিবর্তন করে নিচে নেমে আসে।

এরপরই বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং তার পাস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন হয়ে বলটি পান বেলিংহাম। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ড সমতায় ফেরে। ফিফার নিয়ম অনুসারে যদি বল মাঠের বাইরের কোনো বস্তু যেমন ক্যামেরা বা তারে আঘাত করে তবে রেফারিকে তাৎক্ষণিক খেলা থামিয়ে ড্রপ বলের মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করতে হয়।

যেহেতু এই ঘটনাটি সরাসরি গোলের বিল্ডআপের অংশ ছিল তাই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোলটি বাতিল করার সুযোগ ছিল। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ জানিয়েছেন যে কোনো গোল হওয়ার প্রক্রিয়ায় বল ক্যামেরার তারে লাগলে ভিএআর অবশ্যই সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে প্রথমার্ধ শেষে নরওয়ের কোচ স্টেল সলবাকেন এবং তারকা ফুটবলার আর্লিং হালান্ডসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠের রেফারি ক্লেমেন্ট টারপিনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ফিফা এক বিবৃতিতে জানায় যে বলের ভেতরে থাকা আধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং সেখানে ক্যামেরার কাঠামোর সঙ্গে বলের কোনো সংঘর্ষের সংকেত পাওয়া যায়নি। ফিফার এই আশ্বাসেও নরওয়ে শিবিরের অসন্তোষ কমেনি এবং বিষয়টি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বিতর্ক রয়েই গেছে।

এস এম/ ১২ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language