মধ্যপ্রাচ্য

সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন ছাড়া বড় কোনো সিদ্ধান্ত নয়: মাসউদ পেজেশকিয়ান

তেহরান, ২৪ মে – ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। শনিবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রায় সম্পন্ন হওয়ার দাবি করছেন, ঠিক সেই সময়েই পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এলো।

পেজেশকিয়ান আরও স্পষ্ট করেন যে,

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কাঠামোর মধ্যেই সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এই কাউন্সিলই মূলত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণের প্রধান সংস্থা হিসেবে কাজ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,

পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতৃত্বের একক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি পুনরায় আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। এদিকে ইরানের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।

গত মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর আগে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবর্তনের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে,

মোজতবা খামেনি একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে সেই বৈঠকের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ না করায় জনমনে সংশয় রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে,

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই বার্তা এটিই স্পষ্ট করে যে, আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক যেকোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা এখনও সর্বোচ্চ নেতার হাতেই ন্যস্ত। বিশেষ করে ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির দাবির প্রেক্ষিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার এই ভারসাম্য এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এস এম/ ২৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language