শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: তদন্ত শেষ, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

ঢাকা, ৮ জুলাই – ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমানে খসড়া প্রতিবেদনটি আইনি ও কারিগরি যাচাই বাছাই পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ২১ জুলাইয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে অভিযোগ দাখিল করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে জোরালো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়াও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর প্রাথমিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে ভিডিও ফুটেজ, আলোকচিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে এই তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের সেই অভিযানে সারাদেশে মোট ৫৮ জন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন প্রাণ হারান।
প্রতিবেদনে একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে প্রকৃত ঘটনা আড়ালের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, তারা একটি বিতর্কিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
এই মামলায় এ পর্যন্ত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির শাহরিয়ার কবিরসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের নেতাদের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এনএন/ ৮ জুলাই ২০২৬









