কক্সবাজার

কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ ১৫, আতঙ্কে এলাকাবাসী

কক্সবাজার, ২৬ ফেব্রুয়ারি – কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী এলাকায় নবনির্মিত একটি গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এন আলম নামের ওই ফিলিং স্টেশনে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই পাম্পে প্রথমে গ্যাস লিক করা শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস থাকায় এলাকাজুড়ে চরম ভীতি তৈরি হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা সাময়িক দুর্ভোগে পড়েন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জানান, ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করেছে এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধের চেষ্টা চালানো হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানান, দগ্ধ মোট ১৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় এবং আটজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছিল।

এনএন/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language