মধ্যপ্রাচ্য

ইয়েমেনে হুথি হামলার পর ফের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা

সানা, ৮ আগস্ট – ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্তিমিত থাকা গৃহযুদ্ধ কি আবারও নতুন করে বড় আকারে জ্বলে উঠতে যাচ্ছে? দেশটির সরকারি বাহিনীর সামরিক অবস্থানে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর এমন আশঙ্কা এখন প্রবল হয়ে দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাজরামাউত ও মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সামরিক শিবির লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা এই সংঘাতে এমন বড় হামলা নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মধ্য দিয়ে হুথি বিদ্রোহী ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে আবারো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে দাবি করেছেন যে, তাদের অভিযানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রের গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরই তারা এই হামলা চালিয়েছেন। ইয়েমেনে বর্তমান এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৪ সালে যখন হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেয়।

যদিও ২০২২ সাল থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চলছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাগি মনে করেন, হুথিদের এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

একই সঙ্গে মারিব অঞ্চলের তেল ও গ্যাস সম্পদ দখলের লড়াই আবারও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের এই সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ইরান ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাতেও রূপ নিয়েছে।

হুথিদের লোহিত সাগরের জাহাজ ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে ইয়েমেনে না শান্তি না যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটে একটি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এস এম/ ৮ আগস্ট ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language