মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করবে ইরান

ডুবো ড্রোন

তেহরান,২২ সেপ্টেম্বর- মার্কিন নৌবাহিনীর একটি পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় ড্রোন জব্দ করার পর সেটির প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করে অনুকরণ ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি ইরানের নৌবাহিনীর হাতে আসা মার্কিন পানির নিচের এই ড্রোনটির প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ শুরু করা হবে।

মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ইরানি বাহিনী যেসব সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে, তার মধ্যে এই পানির নিচের যানটিও রয়েছে।

তিনি বলেন, “আইআরজিসির নৌবাহিনীর হাতে আসা এই পানির নিচের যানে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে।”

তিনি আরও দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলোর কয়েকটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

কোন ধরনের ড্রোন এটি?

ইরানের হাতে আসা যানটি ‘ডাইভ-এলডি’ নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বা এইউভি। এটি দীর্ঘ পাল্লার নজরদারি এবং পানির নিচে বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ডাইভ-এলডির মতো স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যানগুলো প্রচলিত মানবচালিত সাবমেরিনের তুলনায় ছোট এবং দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে কাজ করার উপযোগী। এগুলো পরিচালনায় মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের মতো মিশন পরিচালনা করা সম্ভব।

সামরিক ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ, পানির নিচের অবকাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা

জব্দ করা মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি ইরানের জন্য নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন ধরনের মার্কিন ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। এসব সরঞ্জাম থেকে প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

আইআরজিসির সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, পানির নিচের এই স্বয়ংক্রিয় যানটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ইরান ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তি পুনর্নির্মাণ করতে পারবে বা সেই প্রযুক্তি কতটা কার্যকরভাবে নিজেদের সামরিক ব্যবস্থায় ব্যবহার করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, প্রায় সাত মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির কিছু অংশ ইরানের হাতে এসেছে। তবে তেহরানের এ ধরনের দাবির স্বাধীন যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

এস এম/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language