জামায়াতের ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ শাহবাজ শরিফের

ইসলামাবাদ, ২২ সেপ্টেম্বর- জ্বালানি তেলের ওপর আরোপ করা অতিরিক্ত পেট্রোলিয়াম কর, বারবার মূল্যবৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী (জেআই) আয়োজিত রাজধানী ইসলামাবাদমুখী ট্রেন মার্চ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আন্দোলনরত জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী এই অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে দেশে ফিরে পেট্রোলিয়াম ইস্যুতে অর্থবহ ও কার্যকর সংলাপে বসার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও দেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর এক মুখপাত্রের সূত্রে জানা গেছে, লংমার্চের অংশ হিসেবে হাফিজ নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বে কাফেলা মুলতান রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর নিউইয়র্ক থেকে প্রধানমন্ত্রী ফোনে যোগাযোগ করেন। ফোনালাপে হাফিজ নাঈম প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করা বা সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতে জড়ানো তাদের উদ্দেশ্য নয়। দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তারা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজপথে নেমেছেন। তাই জনগণের আন্দোলনের অধিকারকে সরকারের সম্মান করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মার্চ স্থগিত করার অনুরোধের বিষয়ে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সিদ্ধান্তের আগে দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পরিষদ ‘মজলিস-ই-শূরা’র সঙ্গে জরুরি পরামর্শ করা হবে। শূরা বৈঠকের পর সরকারের অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। তবে তিনি বলেন, সরকারের বিশেষ অনুরোধে মার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিবাদের অধিকার থেকে একচুলও সরে আসবে না।
এদিকে রোববার করাচি থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেন মার্চ সোমবার রাতে তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে মুলতানে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালেও সেখানে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকের ভিড় হয়। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, সরকার ষড়যন্ত্র করে তাদের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, করাচি থেকে মুলতান পর্যন্ত এবং বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ তাদের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমেছে। পাঞ্জাবের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল পেরিয়ে এই কাফেলা লাহোর হয়ে ইসলামাবাদের দিকে যাবে।
সরকারের কঠোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং সড়ক অবরোধে কন্টেইনার বসানোর প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, কন্টেইনার বা কোনো ধরনের বাধাই এই গণজোয়ার থামাতে পারবে না। সরকার যদি পেট্রোলিয়াম লেভির নামে জনগণের পকেট থেকে নেওয়া তথাকথিত জোরপূর্বক কর প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীর কোনো অহংবোধের লড়াই নেই এবং তারা আন্দোলন থেকে সরে আসতে প্রস্তুত।
এস এম/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







