ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদক ও সরবরাহকারী: জিতেন্দ্র সিং

দিল্লি,২২ সেপ্টেম্বর- ভারতের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, পরিমাণের দিক থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদক এবং বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বৈচিত্র্যময় রোগব্যাধি এবং বাড়তে থাকা বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা ভ্যাকসিন গবেষণা, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য বায়োমেডিকেল সমাধান তৈরির ক্ষেত্রে দেশটিরর্ড ও ইনভেস্টরস কাউন্সিলের সদস্য, নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, শিল্প প্রতিনিধি এবং টিকা উন্নয়ন ও মহামারি মোকাবিলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। সিইপিআ জন্য একটি অনন্য ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
সম্প্রতি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ‘কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস’ (সিইপিআই)-এর বোর্ড ও ইনভেস্টরস কাউন্সিলের জন্য আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সান্ধ্য অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ভারত সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি (ডিবিটি) এবং সিইপিআই যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সিইপিআই-এর নেতৃত্ব, বোর্ড ও ইনভেস্টরস কাউন্সিলের সদস্য, নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, শিল্প প্রতিনিধি এবং টিকা উন্নয়ন ও মহামারি মোকাবিলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। সিইপিআই ও এর অংশীদারদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সিইপিআই প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ভারত এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তারা দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার।
ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ভারত এক দশক আগের সীমাবদ্ধতা থেকে অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং একটি প্রাণবন্ত জৈব-অর্থনীতি, শক্তিশালী৫ সালে ভারতের জৈব-অর্থনীতির আকার ১৯৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বছরে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সময়ে দেশটির বায়োটেক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বা পরিবেশতন্ত্র বেড়ে ১১ হাজার ৮৫৫টি স্টার্টআপে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই যুক্ত হয়েছে ১ ভ্যাকসিন তৈরির সক্ষমতা ও একটি বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের মহামারি ও অতিমারির জন্য বিশ্বের প্রস্তুতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে দেশটি।
২০২৫ সালে ভারতের জৈব-অর্থনীতির আকার ১৯৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বছরে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সময়ে দেশটির বায়োটেক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বা পরিবেশতন্ত্র বেড়ে ১১ হাজার ৮৫৫টি স্টার্টআপে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৮০টি নতুন স্টার্টআপ। ভারতের মোট জৈব-অর্থনীতির প্রায় ৩০ শতাংশই আসে বায়োফার্মা খাত থেকে।
ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, ভারতের এই পরিবর্তন টিকা খাতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা উৎপাদনের জন্য পরিচিতি থেকে বেরিয়ে এসে ভারত এখন গবেষণা ও উদ্ভাবন থেকে শুরু করে উন্নত বায়োলজিকস তৈরি এবং বড় পরিসরে উৎপাদন—পুরো ভ্যালু চেইন বা উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই সক্ষমতা অর্জন করেছে। ভারত ১০০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করে। বিশ্বব্যাপী টিকা উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশের জোগান দেয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির চাহিদার ৬৫ শতাংশের বেশি পূরণ করে।
কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভারত শুধু খুব অল্প সময়ের মধ্যে টিকা তৈরি করেনি, বরং অন্যান্য দেশ ও অংশীদারদের কাছেও তা পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর মতে, এই যাত্রা ভারতের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী ধারণায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সহায়তা করেছে।
এস এম/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







