সৌদি আরব ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সামরিক সহযোগিতা জোরদারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে

বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ কৌশলগত এই চুক্তি পর্যালোচনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি দেশটির পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরব আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে। তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো দেশটির সামরিক ঘাঁটি, বেসামরিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। একই সময়ে লোহিত সাগরে সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল ও নাজুক এই নিরাপত্তা পরিস্থিতিই মূলত আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সমন্বয় আরও জোরদার করেছে। গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, গত আগস্টে তুরস্ককে যুক্ত করে চুক্তিটিকে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় জোটে রূপ দেওয়া হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিনটি দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নিউইয়র্কের এই বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামাবাদ ও রিয়াদ স্পষ্ট করেছে যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে মক্কা চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে।
এস এম/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







