ইরানি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা অর্জনের আহ্বান খামেনির

তেহরান,২৩ সেপ্টেম্বর- ইরানি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষাকে একটি প্রতিরক্ষা হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় চালু হওয়া উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, বিশ্বাস ও নৈতিকতার সঙ্গে সমন্বিত জ্ঞান একটি ‘লৌহ বর্ম’ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সক্ষম।
তিনি বলেন, বর্তমানে এমন এক সময়ে—যখন আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার, বিশেষ করে অপরাধী মার্কিন সরকার এবং কৃত্রিম জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার বর্বরতা চরম আকার ধারণ করেছে—তখন জ্ঞানভিত্তিক এবং খোদাভীতি ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ শক্তি একটি লৌহ বর্ম ও তীক্ষ্ণ তলোয়ার হিসেবে কাজ করে। এটি মানবতার বিরুদ্ধে আগ্রাসীদের হাত বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
ইরানে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এই বার্তা দেওয়া হয়। এতে সর্বোচ্চ নেতা ইরানের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
বার্তায় মুজতবা খামেনি শিক্ষার্থীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো সময় জ্ঞান বাড়ানো, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নত করা এবং পরিবার, সহনাগরিক ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জ্ঞানের সীমানা বাড়ানো এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে ইরানের উন্নয়নে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব।
তিনি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, ফারসি ভাষা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতীকগুলো সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে খামেনি শিক্ষার্থীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় খোলার সময় অনেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধ্যাপকের অনুপস্থিতি অনুভূত হবে।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ২৯৬ জন ইরানি শিক্ষার্থী এবং ৬৫ জনের বেশি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রথম দিনেই অন্যতম ভয়াবহ এক হামলায় মার্কিন বাহিনী মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তাইয়্যেবে’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরপর দুটি হামলা (ডাবল ট্যাপ অ্যাটাক) চালায়। এতে ১৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন।
মুজতবা খামেনি বলেন, শহীদ শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতি অনুভূত হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এই শোক আমাদের মনকে ভালো ও মন্দের মধ্যকার সংগ্রাম এবং সত্য ও মিথ্যার লড়াইয়ের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবনের পথে পরিচালিত করবে।’ পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁদের এই অবদান আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য বলেও উল্লেখ করেন।
এস এম/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







