মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পকে সরাসরি ইরানের প্রেসিডেন্টের কড়া হুঁশিয়ারি: মাথা নত করব না, কোনো শক্তির ভাষাও মানব না

তেহরান, ২৩ সেপ্টেম্বর – জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের মঞ্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ওয়াশিংটনের তরফ থেকে নেমে আসা লাগাতার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি ও রাজনৈতিক চাপকে পাত্তাই দিলেন না এই ইরানি প্রধান। উল্টো অধিবেশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন—ইরানিদের কখনো হাঁটু গেড়ে বসানো যাবে না।

জাতিসংঘে দেয়া রোমাঞ্চকর ও তেজস্বী বক্তব্যের শেষ অংশে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে পেজেশকিয়ান বলেন, “নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইরানকে কাবু করা অসম্ভব। বরং এই ধরনের চাপ যত বাড়বে, দেশের মানুষের প্রতিরোধের শক্তিও তত বেশি বৃদ্ধি পাবে।”

‘আলোচনার দরজা খোলা, কিন্তু শক্তির ভাষা নয়’

বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের কূটনৈতিক নীতি পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যেকোনো গঠনমূলক সংলাপ বা আলোচনার টেবিল থেকে ইরান কখনো পালিয়ে যায়নি এবং এখনো তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে সেটি হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে।

আমরা কখনো মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না। ইরান সংলাপের জন্য প্রস্তুত, কিন্তু হুমকির মুখে কোনো ধরনের ‘শক্তির ভাষা’ আমরা মেনে নেব না।”
> — মাসউদ পেজেশকিয়ান, প্রেসিডেন্ট, ইরান

‘ফিলিস্তিন বিশ্ববিবেকের ওপর এক খোলা ক্ষত’

নিজের বক্তৃতায় গাজা ও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর বিশ্বজুড়ে বহু প্রস্তাব পাস হলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদারিত্ব ও সহিংসতা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

গাজা পরিস্থিতিকে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ ঠেকাতে বৈশ্বিক ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—”যার নিজের ভিটেমাটি দখল করা হয়, যার ঘরে প্রতিনিয়ত বোমা ফেলা হয়, সে প্রতিরোধ ছাড়া আর কী করবে?” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, লাখ লাখ বোমা ও অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে ফিলিস্তিনিদের আজাদী আন্দোলনকে দমানো সম্ভব নয়; বরং রক্তক্ষয়ী আক্রমণ প্রতিরোধ চেতনাকে আরও শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে।

ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র ও বৈশ্বিক দ্বিমুখী নীতি

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কড়া তদারকি ও নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি এই প্রশ্নে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’ প্রকাশ্যে উন্মোচিত করেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল প্রকাশ্যে পারমাণবিক বোমার মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের বিষয়ে সবাই চুপ, অথচ অহেতুক আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বারবার ইরানে পাঠানোর তোড়জোড় চলে। ইসরায়েল গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করলেও তাদের কোনো ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে না। উল্টো ইরান যখনই ইতিবাচক আলোচনার টেবিলে এসেছে, তখনই অর্থনৈতিক ও সামরিক চক্রান্তের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এনএন/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language