“জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ তকমা দিয়ে তুলোধোনা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

বুয়েনোস আইরেস, ২৩ সেপ্টেম্বর – জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মহাসভায় দাঁড়িয়ে বিশ্বসংস্থাকে চরমভাবে আক্রমণ করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে। বক্তব্য শুরুর প্রথম মুহূর্তেই তিনি জাতিসংঘের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এটিকে একটি সম্পূর্ণ ‘অকার্যকর’ সংস্থায় পরিণত হয়েছে বলে কড়া মন্তব্য করেন। তার এই চাঁছাছোলা বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সাধারণ পরিষদে দেওয়া এই বিস্ফোরক ভাষণে মিলে শুধু জাতিসংঘকে খোঁচাননি, বরং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বহুল বিতর্কিত ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ (যা আর্জেন্টিনায় ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত) কেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছেন।
মালভিনাসে যুক্তরাজ্যের তেল উত্তোলনকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ ঘোষণা
যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনা বরাবরের মতোই নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। প্রেসিডেন্ট মিলে তার বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের ‘সি লায়ন প্রজেক্ট’ (Sea Lion Project)-এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এই প্রজেক্টের অধীনে উত্তর মালভিনাস অববাহিকায় আর্জেন্টিনার মহীসোপানে তেল উত্তোলনের জন্য ব্রিটিশ লাইসেন্স অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মিলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—আর্জেন্টিনার সম্মতি ছাড়া ওই অঞ্চলে কোনো প্রকার অর্থনৈতিক বা খনন কার্যক্রম চালানো আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (UNCLOS) এবং আর্জেন্টিনার নিজস্ব আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ সরকারের অধীনে পরিচালিত এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনভিপ্রেত।
শান্তিপূর্ণ হলেও কঠোর অবস্থানের বার্তা
আর্জেন্টিনা এই ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান কীভাবে বজায় রাখবে, সে বিষয়ে মিলে বলেন, “এ বিষয়ে আর্জেন্টিনা শান্তিপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উপায়ে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ বেছে নিয়েছে।” বিশ্বমঞ্চে কোনো প্রকার সংঘাত ছাড়াই আইনি ও কূটনৈতিক উপায়ে ব্রিটিশ পদক্ষেপ ঠেকানোর বার্তা দেন তিনি।
বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার খারিজ
দ্বীপগুলোতে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ‘আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার’ (Right to Self-Determination) দাবিকে এক বাক্যে নাকচ করে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।
তার দাবি অনুযায়ী, বিতর্কিত এই সার্বভৌম ভূখণ্ডে যুক্তরাজ্যের মতো এক দখলদার শক্তি কৃত্রিমভাবে জোরপূর্বক নিজস্ব জনগোষ্ঠী এনে বসতি স্থাপন করিয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের সাধারণ আন্তর্জাতিক নীতি কার্যকর বা প্রযোজ্য হতে পারে না।
জাতিসংঘের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা এবং লাতিন আমেরিকার এই ঐতিহাসিক সীমান্ত বিরোধ নিয়ে মিলের এমন আগ্রাসী কূটনৈতিক বক্তব্য নতুন করে দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলের রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।
এনএন/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







