এশিয়া

চীনের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন সাধারণ এক ডেলিভারিম্যান

বেইজিং, ২৩ জুলাই – সারা দিন শহরের পথে পথে খাবার পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কাজ। ব্যস্ততার ফাঁকে যখনই সময় পান, রাস্তার ধারে বসে কাগজের ছোট ছোট টুকরোয় লিখে রাখেন মনের কথা। ৫৬ বছর বয়সী সেই সাধারণ ডেলিভারিম্যান ওয়াং জিবিংয়ের কলমই এবার তাঁকে এনে দিয়েছে চীনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লু শুন সাহিত্য পুরস্কার।

নিজের অনবদ্য কবিতা সংকলন ‘লো ফ্লাইট’-এর জন্য এই স্বীকৃতি পেয়েছেন ওয়াং। আধুনিক চীনা সাহিত্যের পথিকৃৎ লু শুনের নামে প্রবর্তিত এই পুরস্কারকে দেশটিতে সাহিত্যের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওয়াংয়ের জীবনসংগ্রাম ছিল অত্যন্ত কঠোর।

চীনের জিয়াংসু প্রদেশে জন্মগ্রহণ করা এই লেখক কিশোর বয়সেই পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হন। জীবনধারণের জন্য তিনি এক সময় নির্মাণশ্রমিক, ফেরিওয়ালা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন। অবশেষে ২০১৯ সালে তিনি খাবার সরবরাহের পেশায় যুক্ত হন।

কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বই এবং লেখার প্রতি তাঁর ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। গত এক দশক ধরে তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কবিতা ও প্রবন্ধ লিখছেন। তাঁর লেখায় ফুটে ওঠে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিদিনের ক্লান্তি, না বলা স্বপ্ন এবং সংগ্রামের চিত্র।

২০২২ সালে তাঁর ‘ম্যান ইন আ হারি’ শীর্ষক একটি কবিতা ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। একজন গ্রাহকের ভুল ঠিকানায় খাবার পৌঁছাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় যে ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কবিতাটি লিখেছিলেন তিনি। চলতি বছর প্রকাশিত ‘লো ফ্লাইট’ গ্রন্থটি তৈরি হয়েছে প্রায় ২০০ জন ডেলিভারি কর্মীর বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে।

বইটির একটি জনপ্রিয় পঙক্তি হচ্ছে, কে বলে ডানা মেললেই উঁচুতে ওড়া? নিচুতে ওড়াও তো এক ধরনের ওড়া। পুরস্কার পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওয়াং জিবিং জানান, সম্মাননা পাওয়ার খবরের আগ পর্যন্ত তিনি মানসিকভাবে বেশ চাপে ছিলেন। তবে এই অর্জন তাঁর বর্তমান জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনবে না।

তিনি বলেন, জীবিকার জন্য না হলেও আমি কাজের পরিবেশটি উপভোগ করি এবং সাধারণ জীবনই কাটাতে চাই। আগামী ডিসেম্বরে এই কাব্যগ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর মাধ্যমে ওয়াংয়ের চিন্তা ও লেখনী আন্তর্জাতিক পাঠকদের কাছেও পৌঁছে যাবে। ওয়াং জিবিংয়ের এই অসামান্য সাফল্য প্রমাণ করে যে, সাহিত্য নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। চীনে ইদানীং শ্রমজীবী মানুষের মাঝ থেকে উল্লেখযোগ্য লেখকদের উত্থান ঘটছে।

সাবেক পার্সেল ডেলিভারি কর্মী হু আনিয়ান কিংবা খনিশ্রমিক চেন নিয়ানশির মতো লেখকেরা ইতোমধ্যে পাঠকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ওয়াং জিবিংয়ের এই সাফল্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে, স্বপ্নের কোনো নির্দিষ্ট পেশা নেই।

এস এম/ ২৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button