সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলায় রাশিয়ার ভূমিকা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ২৩ জুলাই – উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর একাধিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ কিংবা উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহে রাশিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, রাশিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলেও মস্কোর দীর্ঘদিনের কারিগরি সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ওপর ইরানের হামলায় রাশিয়ার নানা ধরনের সহায়তার কথা গোয়েন্দা সূত্রগুলো স্বীকার করেছিল।
তবে এবারই প্রথম সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ক্রেমলিনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। জানা গেছে, গত মার্চ মাসে অন্তত দুটি সিআইএ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অন্যটি ছিল ইরাকের পূর্বাঞ্চলের একটি স্থাপনা।
কিছু সূত্রের দাবি অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থাপনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। একটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ নথিতেও আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার যোগসাজশের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সৌদি আরবে হামলায় রাশিয়ার প্রযুক্তিতে উন্নত করা ইরানের দুটি শাহেদ ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে। নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম এই ড্রোনগুলোর প্রথমটি ভবনের বাইরের দেয়ালে ছিদ্র তৈরি করে এবং দ্বিতীয়টি সেই ছিদ্র দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়।
যদিও এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের বিষয়টি পুরোনো হলেও সিআইএর মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় হামলায় মদদ দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কার্যক্রম ব্যাহত করার একটি সরাসরি প্রচেষ্টা হতে পারে।
বিশেষ করে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর থেকে রাশিয়ার তথ্য সরবরাহের সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা এখন খতিয়ে দেখছেন, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলোতে রাশিয়ার সরবরাহ করা কমেটা এম নামক স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়েছিল কি না।
এই প্রযুক্তিটি ইলেকট্রনিক জ্যামিং মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর এবং লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। সিআইএ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই তদন্ত বা হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এস এম/ ২৩ জুলাই ২০২৬









