সম্পাদকের পাতা

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের ট্রফি স্পেনের হাতে

নজরুল মিন্টো

আর্জেন্টিনার কোটি কোটি সমর্থককে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি চলে গেল স্পেনের হাতে। নিউ জার্সির আকাশে যখন বিজয়ীর আতশবাজি, মাঠজুড়ে যখন লাল-হলুদ জার্সির উল্লাস, তখন কিছুটা দূরে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। চার বছর আগে কাতারে যে ট্রফিটি দুই হাতে তুলে ধরে তিনি একটি দেশের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিলেন, এবার সেই ট্রফিই তাঁর চোখের সামনে তুলে নিল স্পেন।

স্পেনের খেলোয়াড়েরা তখন আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। কেউ মাটিতে শুয়ে কাঁদছেন, কেউ ছুটে যাচ্ছেন গ্যালারিতে থাকা পরিবারের কাছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের চোখেমুখে অবিশ্বাস ও হতাশা। তাঁরা এসেছিলেন টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়তে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের ফিরতে হলো রানার্সআপের পদক নিয়ে।

এমন সমাপ্তি অনেকেই প্রত্যাশা করেননি। বিশ্বের অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী চেয়েছিলেন মেসির হাতে আরেকবার বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে। হয়তো এটিই ছিল তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তাই আর্জেন্টিনার সমর্থক নন, এমন অনেক দর্শকও মনে মনে চেয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ থেকে মেসির বিদায়টি হোক আরেকটি সোনালি মুহূর্তের মধ্য দিয়ে।

কিন্তু ফুটবল সব সময় মানুষের আবেগ মেনে চলে না। ট্রফি নির্ধারিত হয় মাঠের খেলায়, স্মৃতি কিংবা জনপ্রিয়তায় নয়। সেই বিচারে স্পেনই ছিল যোগ্য বিজয়ী। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ধার, খেলোয়াড়দের গতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং জয়ের আকাঙ্ক্ষা, সব ক্ষেত্রেই তারা আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে ছিল। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে স্পেন শুধু একটি গোল করেছে, কিন্তু খেলার মান ও আধিপত্যে ব্যবধানটি ছিল তার চেয়ে অনেক বড়।

ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী মেসি, যিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলকে মুগ্ধ করেছেন। অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল, যাঁকে ভবিষ্যৎ ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকের কাছে এটি ছিল এক প্রজন্মের হাত থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে ফুটবলের মশাল হস্তান্তরের ম্যাচ।

আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা অপেক্ষা করছিলেন মেসির আরেকটি অসাধারণ গোল, একটি নিখুঁত পাস কিংবা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া কোনো মুহূর্তের জন্য। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পুরো ম্যাচে মেসি প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন। স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠ তাঁকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিল যে তিনি বল নিয়ে বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছানোর সুযোগই পাননি।

তবে মেসির নিষ্ক্রিয়তার দায় শুধু তাঁর একার নয়। তাঁর কাছে নিয়মিত বল পৌঁছাতে পারেনি আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ। সতীর্থরা তাঁকে প্রয়োজনীয় জায়গা তৈরি করে দিতে পারেননি। স্পেনের চাপের মুখে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা এতটাই রক্ষণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে মেসি অনেক সময় আক্রমণভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তিনি আক্রমণভাগ থেকে মাঝমাঠে ফিরে এসে বল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সামনে সতীর্থদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় আক্রমণগুলো এগোয়নি।

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে না পারা। দলটি ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল, নাকি শুধু হার এড়ানোর চেষ্টা করছিল, অনেক সময় তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বলের দখল ছেড়ে দিয়ে তারা নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে থাকে। পাল্টা আক্রমণের সুযোগ এলেও পাসে ছিল ভুল, গতিতে ছিল ঘাটতি এবং সিদ্ধান্তে ছিল দ্বিধা। ১১৫ মিনিটের আগে তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য গোল প্রচেষ্টা না আসাই বলে দেয়, আক্রমণে দলটি কতটা নিষ্প্রভ ছিল।

স্পেনের খেলা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের ফুটবলে ছিল পরিকল্পনা, গতি ও সাহস। খেলোয়াড়েরা বল পাওয়ার আগেই বুঝতে পারছিলেন পরের পাসটি কোথায় দিতে হবে। একজন বল হারালে কাছের দুজন সঙ্গে সঙ্গে তা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত পুরো দলটি যেন একই ছন্দে খেলেছে।

রদ্রি মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নিকো উইলিয়ামস প্রান্ত ধরে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন। লামিন ইয়ামাল প্রত্যাশিত গোল না পেলেও তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও সাহসী আক্রমণ আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছে। আর রক্ষণভাগ নিশ্চিত করেছে, মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ যেন গোলের সামনে কোনো জায়গা না পান।

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তারা কোনো একক তারকার ওপর নির্ভর করেনি। একজন আটকে গেলে অন্যজন দায়িত্ব নিয়েছেন। শুরুর একাদশে থাকা খেলোয়াড়দের মতো বদলি হিসেবে নামা খেলোয়াড়েরাও পরিকল্পনার অংশ ছিলেন। সেই দলীয় শক্তিই শেষ পর্যন্ত ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে।

রোববার, ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। ছোট ছোট পাসে তারা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটিয়েছে। স্প্যানিশ খেলোয়াড়েরা বারবার দুই দিক দিয়ে আক্রমণে উঠেছেন এবং আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় বল পাঠিয়েছেন।

আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ধরে রেখেছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কখনও লামিন ইয়ামালের শট, কখনও নিকো উইলিয়ামসের আক্রমণ, আবার কখনও দূরপাল্লার প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন তিনি। স্পেনের সামনে যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মার্তিনেজ। প্রথমার্ধে কোনো দল গোল না পেলেও মাঠের খেলা পরিষ্কার করে দিয়েছিল, ম্যাচটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে।

আর্জেন্টিনা মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে যোগাযোগ ছিল দুর্বল। মেসির পায়ে বল গেলেও তাঁকে সাহায্য করার জন্য আশপাশে পর্যাপ্ত সতীর্থ পাওয়া যায়নি। ফলে আক্রমণগুলো স্পেনের পেনাল্টি এলাকার অনেক আগেই থেমে গেছে।

প্রথমার্ধ শেষে ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় মনে হয়েছিল, বিরতির পর হয়তো আর্জেন্টিনা কৌশল বদলাবে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। স্পেন বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায়, আর আর্জেন্টিনা গোলপোস্ট রক্ষায় ব্যস্ত থাকে।

স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ৬২ মিনিটে ফেরান তোরেসকে মাঠে নামান। তখন কেউ জানতেন না, এই পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আর্জেন্টিনার বিপদ আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে দশজন নিয়ে খেলতে হয়। ৯০ মিনিট শেষে স্কোর গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটি ছিল চতুর্থ ম্যাচ, যেখানে নির্ধারিত সময় শেষে কোনো গোল হয়নি।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও তার আগে মিকেল মেরিনোর ফাউল ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ যেভাবে একের পর এক শট ঠেকাচ্ছিলেন, তাতে অনেকের মনে ২০২২ সালের ফাইনালের স্মৃতি ফিরে আসছিল। তাঁদের আশা ছিল, ম্যাচটি টাইব্রেকারে গেলে মার্তিনেজ আবারও নায়ক হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু সেই আশা টিকেছিল অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরু পর্যন্ত।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ড পর আসে সেই গোল। দূর থেকে পাঠানো বলটি মাঠের বাইরে যেতে না দিয়ে মাথা দিয়ে গোলের সামনে ফেরান নিকো উইলিয়ামস। সঠিক জায়গায় অপেক্ষা করছিলেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। তিনি মুহূর্তের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণ করে জোরালো শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন।

১০৬ মিনিটে বল আর্জেন্টিনার জালে জড়াতেই স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। এটি ছিল ম্যাচে স্পেনের ২০তম গোল প্রচেষ্টা এবং এবারের বিশ্বকাপে তোরেসের প্রথম গোল। যে খেলোয়াড় পুরো প্রতিযোগিতায় গোল পাননি, তিনিই ফাইনালে করলেন নিজের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান গোল।

বাকি সময়ে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে দশজনের আর্জেন্টিনা। মেসি আক্রমণভাগ থেকে মাঝমাঠে ফিরে এসে বল নিয়ে সতীর্থদের এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ কোনো ফাঁকা জায়গা দেয়নি। ১১৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা প্রথম উল্লেখযোগ্য গোল প্রচেষ্টা চালালেও সেটি ম্যাচের ভাগ্য বদলানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

শেষ বাঁশি বাজতেই স্পেনের বদলি বেঞ্চ থেকে সবাই মাঠে ছুটে আসেন। কেউ হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন, কেউ আনন্দে কেঁদে ফেলেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। মেসির মুখে তখন সেই পরিচিত হতাশা, যা তিনি ক্যারিয়ারে বহুবার জয় করেছেন; কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়তো আর জয় করার সুযোগ পাবেন না।

ম্যাচ শেষে মাঠে তৈরি করা হয় পুরস্কার বিতরণের মঞ্চ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আয়োজক ও ফুটবল বিশ্বের প্রতিনিধিরা।

প্রথমে ম্যাচ কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত পুরস্কার বিজয়ীদের সম্মান জানানো হয়। ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি।

এরপর একে একে মঞ্চে ওঠেন রানার্সআপ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। তাঁদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় রুপার পদক। মেসির নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের দর্শকেরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। সেটি ছিল বিজয়ীর জন্য নয়, ফুটবলকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে আনন্দ দেওয়া একজন কিংবদন্তির প্রতি সম্মান। মেসির মুখে হাসি ছিল না। তিনি পদক গ্রহণ করে ধীরে ধীরে মঞ্চ থেকে নেমে যান।

তারপর মঞ্চে ওঠেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের খেলোয়াড়েরা। একে একে সোনার পদক গ্রহণ করেন তাঁরা। সবশেষে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশ্বকাপ ট্রফি। তিনি ট্রফিটি মাথার ওপর তুলে ধরতেই সোনালি কাগজের ঝরনা ও আতশবাজিতে ভরে ওঠে স্টেডিয়াম। সতীর্থরা উল্লাসে লাফিয়ে ওঠেন, আর গ্যালারি থেকে ভেসে আসে স্পেনের বিজয়ধ্বনি। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতল স্পেন।

বিশ্বকাপের শেষ রাত তাই একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার দুটি গল্প লিখে গেল। স্পেন দেখাল, তারুণ্য, পরিকল্পনা ও দলীয় ফুটবলের শক্তি দিয়ে কীভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শিরোপা জেতা যায়। আর্জেন্টিনা বুঝল, শুধু স্মৃতি, আবেগ কিংবা একজন মহান খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দিয়ে ফাইনাল জেতা যায় না। আর ফুটবলপ্রেমীরা দেখলেন, তাঁদের সবচেয়ে প্রিয় নায়কও সব গল্পের সমাপ্তি নিজের মতো করে লিখতে পারেন না।

নিউ জার্সির আকাশ থেকে একসময় আতশবাজির আলো মিলিয়ে গেল। কিন্তু থেকে গেল দুটি দৃশ্য। ট্রফি হাতে উল্লাসরত স্পেন এবং দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মেসি। একদিকে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের জন্ম, অন্যদিকে একটি মহান প্রজন্মের সম্ভাব্য বিদায়ের বিষণ্নতা। এই আনন্দ ও হতাশার মাঝখানেই শেষ হলো ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব।

তথ্যসূত্র:
FIFA (July 19, 2026)
Associated Press (July 19, 2026)
FOX Sports (July 19, 2026)


Back to top button