ফুটবল

২০৩৪ বিশ্বকাপ: সৌদি আরবে সূচি নিয়ে বড় সংকটে ফিফা

জুরিখ, ২১ জুলাই – ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের সূচি নির্ধারণ নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। মধ্যপ্রাচ্যের চরম আবহাওয়ার কারণে টুর্নামেন্টটি শীতকালে আয়োজনের সম্ভাবনা থাকলেও এবার রমজান, হজ এবং শীতকালীন অলিম্পিকের সময়সূচি আয়োজকদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ২০৩৪ সালের সম্ভাব্য শীতকালীন সময়সূচি মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবগুলোর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ নভেম্বর ও ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হলেও ২০৩৪ সালের একই সময়ে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ওই বছর ১২ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত রমজান চলতে পারে।

রমজান মুসলিম দেশগুলোর জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলে এবং সৌদি আরবের মতো দেশে এ সময় দিনের বেলা খেলাধুলাসহ নানা কার্যক্রম সীমিত থাকে। ফলে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হলে ম্যাচগুলো রাতের দিকে সরিয়ে নিতে হতে পারে যা পুরো টুর্নামেন্ট পরিচালনাকে আরও জটিল করে তুলবে।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের সময়কাল বছরের শুরুর দিকে এগিয়ে আনার সুযোগও সীমিত কারণ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২০৩৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মার্চ মাস থেকে শুরু হবে হজের প্রস্তুতি যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লি মক্কায় সমবেত হন। সৌদি আরবের জন্য এটি এমন একটি আয়োজন যার সময় পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

মার্চের পর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে বিধায় জুন বা জুলাই মাসে বিশ্বকাপ আয়োজন প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় ফিফাকে আন্তর্জাতিক লিগ, ক্লাব ফুটবল এবং মহাদেশীয় প্রতিযোগিতার সময়সূচিও নতুন করে বিবেচনা করতে হবে।

পলিটিকোর মতে ২০৩৪ সালের বড়দিনের পর থেকে ২০৩৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়টিই হতে পারে একমাত্র বিকল্প। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বড় চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ইউরোপীয় ক্লাব ও ফুটবল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য বিরোধও সামনে আসতে পারে কারণ বিশ্বকাপের সময় পরিবর্তন মানেই ইউরোপীয় লিগের ক্যালেন্ডারে বড় প্রভাব পড়বে।

এরই মধ্যে ফিফা সভাপতির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল মহলে অসন্তোষ বাড়ছে এবং ২০৩৪ বিশ্বকাপের সূচি নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত এলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। মানবাধিকার ইস্যুও আলোচনায় রয়েছে এবং সৌদি আরবকে এ নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের প্রচলিত সময়সূচি নিয়ে আরও নমনীয়ভাবে ভাবা হতে পারে এবং পুরো ফুটবল ক্যালেন্ডার নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন হতে পারে।

এনএন/ ২১ জুলাই ২০২৬


Back to top button