জাতীয়

হরমুজ প্রণালিতে ১১৫ দিনের রুদ্ধশ্বাস স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরল ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকদল

ঢাকা, ২১ জুলাই – পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ প্রায় চার মাস অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রার নাবিকরা। দীর্ঘ ১১৫ দিন পর গত ২৩ জুন রাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।

সোমবার বিকেলে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান হয়ে ঢাকা পৌঁছান জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলামসহ অন্য নাবিকরা।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম তাঁদের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অবরুদ্ধ থাকার সময়ে তাঁরা কেবল আল্লাহর অশেষ রহমতে দ্বিতীয় জীবন পেয়েছেন। দেশবাসীর দোয়া এবং মানসিক সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তাঁরা জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাননি।

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালে তাঁদের পাশের একটি তেলের ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ফলে তাঁদের জাহাজেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। যুদ্ধের সময় তাঁদের জাহাজের ওপর দিয়ে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রবাহিত হতো এবং পাশেই অন্যান্য জাহাজ ডুবে যেতে দেখা যেত। অনেক জাহাজের নাবিকরা সেই সময়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং পর্যাপ্ত খাবার ও পানির অভাবে অনেকের মৃত্যুও ঘটেছে।

জাহাজটির তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন বলেন, যুদ্ধের উত্তেজনার কারণে স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছিল। এর ফলে তাঁদের সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জাহাজ পরিচালনা করতে হয়েছে।

সমুদ্রে মাইন বিছানো থাকার ফলে সামান্যতম বিচ্যুতিও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারত। তবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী পদক্ষেপে তাঁরা নিরাপদে ফিরতে পেরেছেন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। এরপর কাতার থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে দীর্ঘ সময় আটকা থাকার পর ইরানি বাহিনীর অনুমতি নিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হয়।

বিমানবন্দরে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা নাবিকদের স্বাগত জানান এবং স্বজনদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

এনএন/ ২১ জুলাই ২০২৬


Back to top button