জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাইফউদ্দিনের তাণ্ডব: এক ওভারে ৪ ছক্কায় নতুন রেকর্ড

বুলাওয়ে, ১৭ জুলাই – বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আগের ম্যাচেই যাঁর একাদশে থাকা নিয়ে সংশয় উঠেছিল, সেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনই আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন! দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের অনবদ্য শতরানের জুটির পরও মাঝের ওভারে খেই হারিয়ে যখন বড় সংগ্রহের আশা বাঁচিয়ে রাখার মরণপণ লড়াই করছিল বাংলাদেশ, ঠিক তখনই শেষ ওভারে ম্যাচের পুরো চিত্রটাই বদলে দিলেন এই বোলিং অলরাউন্ডার।
ইনিংসের শেষ ওভারে বোলারকে তুলোধুনো করে টানা ৪টি বিশাল ছক্কা হাঁকান সাইফউদ্দিন। ওই এক ওভারেই তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান! সবমিলিয়ে মাত্র ১০ বলে ৩১ রানের এক অবিশ্বাস্য ও অপরাজিত ক্যামিও খেলেন তিনি, যেখানে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল চোখে কপালে তোলার মতো— ৩১০! আর এই টর্নেডো ইনিংসের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ পায় এক শক্তিশালী পুঁজি।
আজকের এই বিধ্বংসী ইনিংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন সাইফউদ্দিন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক ওভারে টানা চারটি ছক্কা হাঁকানোর মহাকীর্তি এখন শুধুই এই ডানহাতি অলরাউন্ডারের। এর আগে অনেক হার্ডহিটার ব্যাটার এলেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে টানা ৪টি ছক্কা মারার নজির লাল-সবুজ জার্সিতে কেউ দেখাতে পারেননি।
শুধু ৪ ছক্কাই নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের (কমপক্ষে ১০ বল খেলা ইনিংসে) সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের রেকর্ডটিও আজ নিজের করে নিয়েছেন সাইফউদ্দিন।
এই রেকর্ডটি ভাঙার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক কিংবদন্তি ইনিংসকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। প্রায় ১৯ বছর আগে, ২০০৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কেপটাউনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ১৪ বলে ৩৬ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেছিলেন আফতাব আহমেদ। সেই ম্যাচে আফতাবের স্ট্রাইক রেট ছিল ২৫৭.১৪। বিগত ১৯ বছর ধরে কেউ আফতাবের সেই স্ট্রাইক রেট টপকাতে পারেনি। আজ ৩১০ স্ট্রাইক রেট নিয়ে সেই আইকনিক রেকর্ডটি ভেঙে চুরমার করে দিলেন সাইফউদ্দিন।
সাইফউদ্দিনের এই অবিশ্বাস্য ফিনিশিংয়ের আগে অবশ্য বাংলাদেশের ইনিংসের শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হয়ে এই দুই ওপেনার উপহার দেন ১২০ রানের এক উ উড়ন্ত উদ্বোধনী জুটি।
তবে ওপেনাররা বিদায় নেওয়ার পর মিডল-অর্ডারের ব্যর্থতায় দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ফলে স্কোরবোর্ডের গতি সচল রাখা এবং বড় সংগ্রহ পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ঠিক সেই সময়ই কেল্লাফতে করেন সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারের ৪ ছক্কার সেই অবিশ্বাস্য ঝড়ই বাংলাদেশকে এনে দেয় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সংগ্রহ, যা জিম্বাবুয়েকে সিরিজে সমতা ফেরানোর লড়াইয়ে মানসিকভাবে অনেকটাই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।
এনএন/ ১৭ জুলাই ২০২৬









