কানাডার লিটনে ভয়াবহ দাবানল: ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা

অটোয়া, ২২ জুন – কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের লিটন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘স ক্রিক’ দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ওই অঞ্চলে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বনাঞ্চলের আগুন দ্রুত লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের এরই মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রধান মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতভর বিপুল সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ কর্মী ও হেলিকপ্টার কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার লিটন গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আগুন প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় লিটন ফার্স্ট নেশনের দুটি রিজার্ভ এলাকা এবং অন্তত ৬৩টি বসতবাড়ির বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১৭০টি স্থাপনাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। দাবানলের কারণে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে-১ এর একটি দীর্ঘ অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বস্টন বার থেকে অ্যাশক্রফট পর্যন্ত প্রায় ১১৬ কিলোমিটার সড়কে সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত রয়েছে। লিটনের মেয়র ডেনিস ও’কনর জানিয়েছেন, বর্তমানে আগুন উচ্ছেদ আদেশের আওতাভুক্ত বাড়িগুলোর উপরের পাহাড়ি অংশে জ্বলছে। তবে শনিবার সকালে বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কাজে কিছুটা সুবিধা হচ্ছে।
থম্পসন-নিকোলা আঞ্চলিক জেলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘরবাড়ি হারানো বাসিন্দাদের কামলুপস শহরে স্থাপিত জরুরি সহায়তা কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া হাইড্রো জানিয়েছে, দাবানলের কারণে অন্তত ১৮২ জন গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।
পুরো লিটন এলাকায় পানির সংকট দেখা দেওয়ায় বাসিন্দাদের পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন বর্তমানে মাঝারি মাত্রার তীব্রতায় জ্বলছে। এটি নিয়ন্ত্রণে ১৩০ জনেরও বেশি কর্মী এবং ৯টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মানুষের কোনো কর্মকাণ্ড থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এক ভয়াবহ দাবানলে লিটন এলাকা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। নতুন এই আগুনের ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে পুনরায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এস এম/ ২২ জুন ২০২৬









