একদিকে সুইজারল্যান্ডে শান্তি বৈঠক, অন্যদিকে ট্রাম্পের নতুন হুঙ্কার!

ওয়াশিংটন, ২১ জুন – বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও চরম উত্তেজনা! একদিকে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই তেহরানকে সরাসরি যুদ্ধের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি অবিলম্বে ‘‘ঝামেলা সৃষ্টি করা’’ বন্ধ না করে, তবে ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি। রোববার (২১ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ (Truth Social) দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন।
সুইজারল্যান্ডে যখন দুই দেশের কূটনীতিকরা টেবিলে বসেছেন, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই পোস্ট শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের বিপুল অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের (হিজবুল্লাহ) অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা গত সপ্তাহের মতোই ইরানের ওপর আবারও খুব জোরালো আঘাত হানব। তবে এবার আঘাত হবে আরও শক্তিশালী!!!”
উল্লেখ্য, গত বুধবারই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাত অবসানের শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার কয়েকদিনের মাথায় ট্রাম্পের এই হুমকি পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলল।
লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষ ও শান্তি আলোচনার সংকট
দক্ষিণ লেবাননে গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং তেহরানের মিত্র হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। গত শনিবারও পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় ইসরায়েলি বাহিনীকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাময়িক সংঘর্ষ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর লড়াই কিছুটা শিথিল হয়েছে।
এই জ্বলন্ত পরিস্থিতির মাঝেই সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
রোববার সুইজারল্যান্ডে আলোচনার শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গত মাত্র কয়েক দিনে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সবাই আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে কাজ করছি। লেবাননে আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি, তা নিয়ে আসলে আমি খুব আশাবাদী। এখনও কিছু বাড়তি কাজ করা বাকি আছে, তবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।”
ভ্যান্স আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননের সংঘাত থামাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই কড়া হুমকির পর সুইজারল্যান্ডের শান্তি বৈঠক কোন দিকে মোড় নেয় এবং ইরান এর জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়।
এনএন/ ২১ জুন ২০২৬









