ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও অঙ্গরাজ্য মন্তব্যে কানাডার পাল্টা হুঁশিয়ারি

অটোয়া, ২৩ আগস্ট – বাণিজ্য আলোচনা সফল না হওয়ার পর কানাডাকে নিয়ে পুনরায় কঠোর মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন যে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য না হয়েও একটি অঙ্গরাজ্যের মতো সুবিধা ভোগ করতে চায়।
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে দুই দেশ এখন একটি বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর শনিবার প্রথমবারের মতো এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
এই আলোচনার ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। ট্রাম্প দাবি করেন যে কানাডা বছরের পর বছর ধরে মার্কিন কৃষকদের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপ করে আসছে।
তার মন্তব্যে পুনরায় কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বিষয়টি উঠে এসেছে যা এর আগেও তিনি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান যে যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপের লক্ষ্য হলো কানাডাকে দুর্বল এবং বিভক্ত করা।
তিনি বলেন যে যখন একটি পক্ষ আক্রান্ত হয় তখন যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং কানাডা বর্তমানে আক্রান্ত। তিনি ঘোষণা দেন যে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে। এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার আওতায় ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সরঞ্জাম এবং ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই ৫০ শতাংশ শুল্ক কানাডা থেকে আমদানিকৃত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্যের ওপর কার্যকর হবে। এর আগে থেকেই কানাডীয় ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের ওপর মার্কিন শুল্ক বহাল ছিল। নতুন শুল্কের তালিকায় পানীয়, সিমেন্ট, পোশাক এবং হকি সরঞ্জামের মতো ভোগ্যপণ্য রয়েছে।
কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের নেতারাও কেন্দ্রীয় সরকারের এই অবস্থানের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবিও মার্কিন দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান এই বাণিজ্য আলোচনার পতনের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।
কানাডার মতে যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে এমন কিছু শর্ত দিয়েছিল যা মেনে নেওয়া অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে অন্য দেশের সঙ্গে কানাডার স্বাধীন বাণিজ্য চুক্তির সক্ষমতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবিটি ছিল অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেছেন যে কানাডা আগে সম্মত হওয়া শর্তগুলো থেকে সরে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এস এম/ ২৩ আগস্ট ২০২৬









