কলকাতার নিউমার্কেটে হোটেল বন্ধের হিড়িক: চরম ভোগান্তিতে বাংলাদেশি রোগীরা

কলকাতা, ২৪ আগস্ট – কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে একের পর এক হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি রোগী এবং তাদের স্বজনেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিশেষ করে বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন আশ্রয়ের খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে পর্যটকদের। সাভারের ৮২ বছর বয়সী বৃদ্ধা সালেয়া বেগম মাথায় টিউমার নিয়ে পরিবারের সাথে কলকাতায় চিকিৎসা নিতে এসেছেন। নিউমার্কেট এলাকার যে হোটেলে তারা উঠেছিলেন সেটি সরকারি নির্দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসুস্থ মাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তার ছেলে মনির হোসেন।
এমন চিত্র এখন কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার অধিকাংশ স্থানেই দেখা যাচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা পৌরসভা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই করপোরেশন যৌথভাবে আবাসিক হোটেলগুলোতে অভিযানে নেমেছে।
প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক হোটেলকে নতুন পর্যটক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগে থেকে যারা ছিলেন তাদেরও দ্রুত সরে যেতে বলা হচ্ছে। ঢাকার নাসিব পাপ্পু ও কুমিল্লার ক্যান্সার আক্রান্ত রেহানা আক্তারও একই সংকটের কথা জানিয়েছেন।
রেহানার মেয়ে বুশরা নূর জানান, হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে অসুস্থ রোগীদের বিকল্প আবাসন নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আশপাশের কিছু হোটেল কক্ষের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে যে কক্ষ ৫০০ থেকে ৬০০ রুপিতে পাওয়া যেত এখন তার জন্য দেড় থেকে দুই হাজার রুপি দাবি করা হচ্ছে।
এই সংকট শুধুমাত্র পর্যটকদের নয় বরং ট্যাক্সি চালকদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিউমার্কেটের একটি হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করে ১২ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এস এম/ ২৪ আগস্ট ২০২৬









