উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের দাবিকে ‘মনগড়া গল্প’ বলে উড়িয়ে দিলেন মেলোনি!

ওয়াশিংটন, ১৯ জুন – “আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে অনুনয়-বিনয় করি না।”— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিতর্কিত দাবিকে ঠিক এভাবেই সপাটে উড়িয়ে দিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও রোমের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে এখন চরম টানাপোড়েন ও কূটনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি একটি ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গত জি৭ (G7) সম্মেলনে মেলোনি নাকি তাঁর সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য প্রায় অনুনয়-বিনয় বা অনুরোধ করেছিলেন! ট্রাম্প আরও বলেন, মেলোনি তাঁর সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত খুশি ছিলেন এবং তিনি কেবল সৌজন্যবশত মেলোনির সাথে দুটো কথা বলেছেন।

ট্রাম্পের এমন আত্মঅহংকারী বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। আমি সত্যিই বিস্মিত। এটি প্রথমবার নয় যে তিনি তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সম্পর্কে এমন আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন নিজের বন্ধুদের সাথে এমন আচরণ করেন, তা আমার বোধগম্য নয়।”

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মেলোনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমা বিশ্বের পরীক্ষিত ও ঘনিষ্ঠ মিত্রদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর প্রতিপক্ষ ও শত্রু রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের (যেমন রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়া) প্রতি অনেক বেশি নমনীয় ও তোষামুদে আচরণ করেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ইতালির সরকারের ভেতরে যে কী পরিমাণ অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির এক আকস্মিক ঘোষণায়। মেলোনিকে অপমান করার প্রতিবাদে তিনি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র সফর সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অথচ সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনিকে বেশ আন্তরিক ভঙ্গিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে দেখা গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা তখন ধারণা করেছিলেন, দুই ডানপন্থী নেতার সম্পর্কে হয়তো নতুন বসন্ত আসতে চলেছে। কিন্তু ট্রাম্পের মুখ ফসকে বের হওয়া এই ‘ছবি তোলার’ দাবি সেই সম্পর্কের সুতোয় বড় ধরনের টান দিল।

২০২৬ সালের এই সময়ে এসে ইউরোপের অন্যতম প্রধান শক্তি ইতালির সাথে ট্রাম্পের এই দ্বৈরথ ন্যাটো (NATO) এবং পশ্চিমা সামরিক জোটে কোনো নতুন ফাটল ধরায় কি না— এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এনএন/ ১৯ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language