লালমনিরহাটের ৩ সীমান্তে নারী-শিশুসহ ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, রুখে দিল বিজিবি

লালমনিরহাট, ৫ জুন – লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি এই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা এবং আদিতমারী সীমান্তে পুশইনের এই ঘটনাগুলো ঘটে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র অনুযায়ী, পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাবুল কামাত পানিসালা সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা।
অন্যদিকে, হাতীবান্ধার ফকিরপাড়া সীমান্তে ১১ জন এবং আদিতমারীর দীঘলটারি সীমান্তে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
পুশইনের শিকার হওয়া ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন মোস্তফা বিশ্বাস, আজগার আলী, মোর্শেদ, রেহানা বিশ্বাস, ফাতেমা বিবি, জাহেদা বেগম, অনুপা, লিসা খাতুন ও তাসলিমা। তাদের সঙ্গে একটি শিশুও রয়েছে। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোস্তাকিন আলী জানান, বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করে ভারতে ফেরত পাঠিয়েছে। বর্তমানে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যাতে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে।
৬১ বিজিবি পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে এই পুশইনের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির টহল দল তা প্রতিহত করে।
বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা জিরোলাইন থেকে ভারতের ৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এনএন/ ৫ জুন ২০২৬









