ইউরোপ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বকে অতিক্রম করল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

কিয়েভ, ১৩ জুন – ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হয়তো একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন। তার ধারণা ছিল কিয়েভ দখল করতে বড়জোর কয়েক দিন সময় লাগবে। কিন্তু ইউক্রেনীয় বাহিনীর নজিরবিহীন প্রতিরোধ বিশ্বকে চমকে দেয়।

ফলে কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এই যুদ্ধ এখন নতুন নতুন মাইলফলক অতিক্রম করছে। যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি কোনো নির্দিষ্ট ছক মেনে চলে না। যেমনটি দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান হামলার ক্ষেত্রেও, যেখানে তাদের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের এই যুদ্ধ গত ১১ জুন সময়কালের দিক থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে। ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত চলা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল ১ হাজার ৫৬৭ দিন। অন্যদিকে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে ১ হাজার ৫৭০ দিন পার করেছে, যা আধুনিক ইতিহাসের এক বিয়োগান্তক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া প্রায়ই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে নিজ দেশের স্বার্থে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করা হয়। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি মানুষের প্রাণহানি এই যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ ও আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা যুক্ত করলে মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ এই সংঘাতের সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও উন্নত জীবনের সন্ধানে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়া অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশি তরুণ এই যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধে পর্দার অন্তরালে নানা কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও তার কোনো সুফল মেলেনি।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট নিরসনের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো নিরপেক্ষ দেশে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন।

তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন যে তিনি সামরিক পন্থায় তার লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর। অধিকাংশ ইউক্রেনীয় নাগরিক মনে করেন, আগামী বছরের আগে এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে এই যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বকালকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে এগোচ্ছে।

এস এম/ ১৩ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language