সেউতায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল ও ৫৭ জনের মৃত্যু: পরিস্থিতি সামলাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন

মাদ্রিদ, ১ আগস্ট – স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় আকস্মিক বন্যার মতো প্রবেশ করা ৫০ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে অন্তত ৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নিহতের এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। মৃতদের অনেকেই মরক্কোর ফনিদেক এলাকা থেকে সাঁতরে সেউতা আসার পথে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে প্রাণ হারান। এছাড়া বেশ কয়েকজন পদদলিত হয়েও মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হওয়ায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা পুনরায় মরক্কোতে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন মানুষ ইতোমধ্যে ফিরে গেছেন। বাকিদেরও শিগগিরই ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মরক্কো সীমান্ত থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্পেনের এই ছিটমহলে প্রবেশ করলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মরক্কো ও স্পেন উভয় পক্ষই সাগর ও স্থল সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে। এর ফলে গতকাল বিকেল থেকে সেউতায় নতুন করে অনুপ্রবেশ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
উল্লেখ্য যে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত স্পেনের সেউতা ও মেলিলা ছিটমহল দুটি আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সংযোগস্থল। এ কারণে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে মানুষ প্রায়ই এই পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সেউতা সফর করেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি বলেন যে তার সরকার সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করে এই সংকট মোকাবিলা করছে। সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায় নিয়ে মানবপাচারকারী মাফিয়া চক্র বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অভিবাসীদের উসকে দিয়েছে। তবে স্থানীয় অধিকারকর্মীরা এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সীমান্তে কড়াকড়ি ও খাদ্য সংকটের কারণে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীই এখন নিরাশ হয়ে ফিরে আসছেন। ২০ বছর বয়সী আয়মান নামের এক তরুণ জানান যে সেউতায় পৌঁছানোর পর তাদের চরম অভাব ও ক্ষুধার মোকাবিলা করতে হয়েছে। স্প্যানিশ সেনাবাহিনী তাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়ার পর তিনি পুনরায় পাঁচ কিলোমিটার পথ সাঁতরে মরক্কোতে ফিরে এসেছেন। এমন অনিশ্চয়তা ও জীবনঝুঁকির কারণে হাজার হাজার মানুষ এখন নিজ দেশে ফেরার পথ বেছে নিচ্ছেন।
এনএন/ ১ আগস্ট ২০২৬









