সীমান্তে ফের রক্তক্ষরণ: হাতীবান্ধায় বিএসএফ-এর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত! দায় অস্বীকার ভারতের

লালমনিরহাট, ১৪ মে – সীমান্তে থামছেই না লাশের মিছিল। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে খাদেমুল ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত খাদেমুল হাতীবান্ধার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত রাতে সীমান্তের ৯০৫/৬-এস পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান করছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি। এ সময় ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় মারাত্মক জখম হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি কোনোমতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে এলে স্থানীয়রা তাকে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় এই যুবকের।
এই ঘটনায় বিজিবি প্রতিবাদ জানালেও বিএসএফ সরাসরি দায় অস্বীকার করেছে। পাগলামারী ক্যাম্পের দাবি, ওই রাতে তাদের কোনো সদস্য ফায়ারিং করেনি এবং তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরীক্ষায় গুলি ছোঁড়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। শুরুতে তদন্তের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তাদের এই অবস্থান সীমান্ত উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিজিবি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
একদিকে বিএসএফ-এর অস্বীকার, অন্যদিকে নিহত যুবকের শরীরে গুলির ক্ষত—এই দুই বিপরীতমুখী তথ্যে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিএসএফ গুলি না করলে কীভাবে এই যুবক ভারতের অভ্যন্তর থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ফিরলেন? নিহতের পরিবার এখন সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাচ্ছে।
এনএন/ ১৪ মে ২০২৬









