লালমনিরহাটে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, আহত ১১

লালমনিরহাট, ১৯ মে – লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ২০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে ঘরচাপা পড়ে এবং গাছের ডাল মাথায় পড়ে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। ঝড়ের পর থেকে হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার মধ্যরাতের এই ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ার ফলে লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী মহাসড়কের তুষভান্ডার ইউনিয়নে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গাছ সরিয়ে নিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঝড়ের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি উপড়ে পড়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলে উঠতি ভুট্টা ক্ষেত এবং পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বহু কাঁচা ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র রায় এবং বিজয় কুমার জানান, ঝড়ে তাদের গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এস এম/ ১৯ মে ২০২৬









