বিধানসভা ভোটে কারচুপির অভিযোগে মামলা তৃণমূলের, প্রার্থী অনীহায় বিপাকে দল

কলকাতা, ২৬ মে – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের ফলাফলকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেননি এবং গণনাকেন্দ্রে ভোট লুটের অভিযোগ তুলেছেন।
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি আসনে পরিকল্পিতভাবে তাদের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির এই জয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলেরই বেশ কয়েকজন পরাজিত প্রার্থী।
দলীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, তৃণমূল আইনি পথে ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেও অনেক পরাজিত প্রার্থী মামলার ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছেন না। বিশেষ করে জাঙ্গিপাড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর ভূমিকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ জানান, তার জুনিয়র স্নেহাশিসকে মামলার বিষয়ে ফোন করেছিলেন, কিন্তু তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, যারা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করেছেন, তারাই এখন বিপদের সময়ে লড়াই থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, উত্তরপাড়া থেকে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা কল্যাণের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় মামলার প্রস্তুতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ৪ মে ফল প্রকাশের পর থেকে তিনি মমতার বাসভবনে গিয়ে বিভিন্ন জেলার রিপোর্ট একত্রিত করছেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, মামলার ক্ষেত্রে দল সব ধরনের আইনি সহায়তা দেবে, তবে প্রাথমিক দায়িত্ব প্রার্থীদেরই নিতে হবে।
প্রার্থীরা সরে দাঁড়ালে গোটা প্রক্রিয়াই ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইভিএমের সিল থাকা ১৭-সি ফর্মের গরমিল এবং ভোটযন্ত্রের চার্জ নিয়ে অসংগতি। দলগতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে সরব হয়েছেন। তবে প্রার্থীদের অনীহা তৃণমূলের এই আইনি লড়াইকে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।
এস এম/ ২৬ মে ২০২৬









