পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতায় কোরবানির পশুহাটে গরুর সংকট, আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে খাসি ও দুম্বা

কলকাতা, ২৪ মে – আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কলকাতার পশুহাটগুলোতে এবার এক ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। গরু ও মহিষ জবাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর আইন কার্যকরের নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পশুর হাটগুলোতে বড় পশুর সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে কোরবানির বাজারে ক্রেতাদের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে খাসি ও দুম্বা। তবে চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে এসব পশুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। গত বছর কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার ১ নম্বর রাইফেল রেঞ্জ রোডের আল্লাহ ভরসা পশুহাটে গরুর ব্যাপক বেচাকেনা দেখা গেলেও এবার চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত।

শনিবার দুপুরে সেখানে পশুর বদলে পোশাক বিক্রি হতে দেখা গেছে। এমনকি কোরবানির সরঞ্জাম বিক্রির দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল না বললেই চলে। গরু ও মহিষের সংকটে এখন সবচেয়ে বেশি কদর বাড়ছে খাসি ও দুম্বার। বিক্রেতারা এই সুযোগে দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এতে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছেন। কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিটের নাখোদা মসজিদের পাশের হাটে দেখা গেছে, স্থানীয় এলাকা ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খাসি ও দুম্বা নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে আসা আসলাম নামের এক খামারি তার উন্নত জাতের এক জোড়া খাসির দাম হাঁকিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার রুপি।

তিনি জানান, গরু না থাকায় ক্রেতাদের সব চাপ এখন খাসির ওপর পড়েছে, যার ফলে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। হাদি নামের এক ক্রেতা জানান, গত বছর যে খাসি ২৫ হাজার রুপিতে পাওয়া যেত, এবার তার দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৫ হাজার রুপি। দরদাম করেও বিক্রেতাদের মন গলানো যাচ্ছে না।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় মেহতাব নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি ৮০ হাজার রুপি দিয়ে দুটি খাসি কিনেছেন। অন্যদিকে বছরের পর বছর গরু কোরবানি দিলেও এবার পরিস্থিতির কারণে ১ লাখ ১০ হাজার রুপিতে পাঁচটি খাসি কিনতে বাধ্য হয়েছেন এক ক্রেতা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, মধ্যবিত্তদের জন্য এই উচ্চমূল্যে পশু কেনা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তবুও ধর্মীয় রীতি পালনে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সবাই।

এস এম/ ২৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language