পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন: কলকাতার রেস্তোরাঁ থেকে উধাও গরুর মাংসের পদ

কলকাতা, ২৫ মে – পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের খাদ্যসংস্কৃতিতেও ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর নতুন প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপে কলকাতার একাধিক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর মেনু থেকে গরুর মাংসের পদগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মূলত সরবরাহে ঘাটতি এবং সামাজিক উত্তেজনার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ শেখস জানিয়েছে, গরুর মাংসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা স্থায়ীভাবে এই ধরনের খাবার পরিবেশন বন্ধ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে বিখ্যাত মোকাম্বো রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,

তাদের মেনুতে পদগুলো থাকলেও পর্যাপ্ত জোগানের অভাবে গ্রাহকদের তা পরিবেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। জনপ্রিয় চেইন শপ দ্য বার্গার শপ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে যে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত মেনু পরিবর্তন করে তারা গরুর মাংসের পদ তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঈদুল আজহার আগে গরু, ষাঁড় এবং মহিষ প্রকাশ্যে জবাই করার ওপর পুরনো আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি পশুর ক্ষেত্রে সরকারি চিকিৎসকের সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সনদের মাধ্যমে পশুর বয়স এবং কর্মক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।

সরকারের এই কড়াকড়ির প্রভাব পড়েছে গবাদিপশুর বাজারেও। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার খামারি গোপাল দাস জানান, নতুন নীতিমালার কারণে পশু পালন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। বিক্রির পথ সংকুচিত হওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভারতে ধর্মীয় কারণে গরুর মাংস নিয়ে স্পর্শকাতরতা রয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন অংশে মুসলিম এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিয়মিত এটি গ্রহণ করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আইনি জটিলতা এড়াতে কিছু ধর্মীয় নেতা ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, এই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বুলডোজার অভিযান এবং শহরের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনের রং পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপগুলো নিয়ে রাজ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এস এম/ ২৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language