পশ্চিমবঙ্গ

পুকুরে ইলিশ চাষে বড় সাফল্য পেলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা

কলকাতা, ১৬ আগস্ট – বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় মাছ ইলিশের জোগান ও দামের সংকট কাটাতে নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা। নদী বা সাগরের বিকল্প হিসেবে পুকুর বা আবদ্ধ জলাশয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরে অবস্থিত সিফ্রির রহড়া কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই গবেষণা চলছে। এর পাশাপাশি কোলাঘাট ও কাকদ্বীপেও গবেষণার কাজ অব্যাহত রয়েছে। গবেষকদের দাবি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিবেশ এবং পানির গুণগত মান বজায় রাখতে পারলে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।

এই গবেষণায় ইলিশের প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি বিশেষভাবে তৈরি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন জুপ্ল্যাঙ্কটন এবং পুষ্টিকর ফিড ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে মাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে। গবেষণাগারের তথ্যানুযায়ী আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদনের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

সিফ্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক শ্রীকান্ত সামন্ত এই সাফল্য সম্পর্কে জানান ইলিশের বৃদ্ধি সাধারণত ধীরগতির হয়। প্রথম বছরে মাছের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং দ্বিতীয় বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাজারে সচরাচর যে ইলিশ পাওয়া যায় তার বয়স সাধারণত তিন থেকে সাড়ে তিন বছর।

কিন্তু এবারের গবেষণায় ৯৯২ গ্রাম ওজন অর্জন করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। গবেষকরা আরও জানান যে ইলিশের শরীরে পটকা না থাকায় অক্সিজেনের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে স্থানান্তরের সময় ঝুঁকি থাকলেও পানির মান ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করলে পুকুরেও এর চাষ সম্ভব।

ব্যারাকপুর কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. প্রদীপ দে বলেন গবেষণার এই ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে পুকুরে ব্যাপক হারে ইলিশ চাষ করা যাবে যা মৎস্যচাষীদের লাভের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে মাছটি আরও সহজলভ্য করে তুলবে।

এস এম/ ১৬ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language