কলকাতায় আবাসিক হোটেল বন্ধ: খোলা আকাশের নিচে বাংলাদেশি ক্যান্সার রোগীরা

কলকাতা, ৪ সেপ্টেম্বর – কলকাতার নিউ মার্কেটের পর এবার ঠাকুরপুকুর এলাকাতেও আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য আসা বাংলাদেশি ক্যান্সার রোগী ও তাদের স্বজনরা। থাকার জায়গার অভাবে অনেক রোগীকে হাসপাতালের সামনের ফুটপাত ও দোকানের শেডের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে।
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশে এই এলাকার অধিকাংশ হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরপুকুরের ডা. সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক অসুস্থ রোগী মশার উপদ্রব এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যে রাস্তায় রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হোটেলগুলোতে পর্যাপ্ত কক্ষ থাকলেও প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে তারা সেখানে থাকতে পারছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু রোগীকে সাময়িকভাবে থাকার ব্যবস্থা করলেও স্থান সংকুলানের অভাব দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং রোগীদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দূতাবাসের দেওয়া তালিকার হোটেলেও জায়গা মিলছে না বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি গেস্ট হাউস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে নিউ মার্কেটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর রাজ্য সরকার এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এখন পর্যন্ত কলকাতায় প্রায় চার শতাধিক হোটেলের দরজায় তালা পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকসহ দেশি বিদেশি পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগী ও স্বজনরা নতুন করে আবাসন সংকটে পড়েছেন।
এস এম/ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







