পশ্চিমবঙ্গ

এসআইআর বিতর্কে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতার ও পুরোনো তালিকায় ভোটের দাবি মমতার

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর- ভারতের এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে ওঠা ৯২ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রে কারচুপি, ভোটের আগে দলীয় বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তার এবং গণনা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ম বিভিন্ন অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনারের আপত্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারের দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে পুরোনো ভোটার তালিকা ফিরিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে মমতা অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলার বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই ৯২ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রে কারচুপি, ভোটের আগে দলীয় বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তার এবং গণনা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মমতা।

মমতার এই বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে ভোটার নিবন্ধন, নাম বাদ দেওয়া, ভোটার তথ্যভাণ্ডার পরিচালনা এবং এসআইআর-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ ওঠে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট ‘চুরি’র অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন, বিজেপি ও আরএসএসকে নিশানা করেন। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মমতা বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেসব ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের পুরোনো তালিকায় ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব রাজ্যে এসআইআরকে কেন্দ্র করে নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম হয়েছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ করছে, সেসব রাজ্যেও পুরোনো ভোটার তালিকা ব্যবহার করে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, বিজেপির স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহার, হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশের নির্বাচনেও ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি যে দাবিগুলো করেছেন, সেগুলো তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই এসেছে।

এদিকে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনারের উত্থাপিত বিষয়গুলো ছিল প্রশাসনিক পর্যায়ের প্রশ্ন ও পরামর্শ। কমিশনের দাবি, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের ভেতরে মতামতের পার্থক্যকে স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।

মমতা অবশ্য তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনে ধারাবাহিক পরাজয়ের পর বিরোধীরা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছে। তাদের দাবি, জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েই তারা এমন অভিযোগ তুলছে।

এস এম/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language