পশ্চিমবঙ্গ

২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মক্কায় ভিডিও শেয়ার করে সৌদির জেলে মুর্শিদাবাদের যুবক

কলকাতা, ২৮ অক্টোবর – সৌদি আরবের মক্কায় অনৈতিক ও আপত্তিকর আচরণের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন চাঞ্চল্য। এই ঘটনার সাথে নাম জড়িয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে সৌদির কারাগারে বন্দি রয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। ২ বাংলাদেশির চূড়ান্ত সাজা কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নিজের একমাত্র সন্তানের পরিণতি নিয়ে চরম আতঙ্ক ও আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে মুর্শিদাবাদের ওই যুবকের পরিবার।

ভিডিও শুট ও তিন বছরের কারাবাস

রাজ্য পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি ওই যুবকের নাম সাহাবুদ্দিন শেখ (৩২)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভাব-অনটন মেটাতে গত আট বছর ধরে মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

ঘটনার পটভূমি: মক্কায় দুই বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীর আপত্তিকর আচরণের সময় সেখানে সাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের দাবি, সাহাবুদ্দিন নিজে কোনো ভিডিও তৈরি করেননি। তাঁর সঙ্গে থাকা এক পাকিস্তানি সহকর্মী সাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোনটি চেয়ে নিয়ে ওই দৃশ্যটি রেকর্ড করেন।

ভাইরাল ও গ্রেপ্তার: পরবর্তীকালে সাহাবুদ্দিন ও তাঁর সঙ্গীরা নিছক রসিকতার বশে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র নগরীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অসংবেদনশীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে সৌদি প্রশাসন সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। সেই থেকে টানা ৩ বছর ধরে তিনি সৌদির কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।

‘ছেলের কী হবে?’— মায়ের আকুল কান্না

দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার সংবাদ মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামে পৌঁছাতেই সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। সাহাবুদ্দিনই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ভরসা।

সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি বুকচাপা কান্না নিয়ে বলেন, “ও তো বড় কোনো অপরাধ করেনি। ভুলবশত একটা ভিডিও ছেড়েছে বলে এভাবে জেল খাটতে হচ্ছে আমার ছেলেকে। ওই বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই ভয়ে বুক কাঁপছে, জানি না আমার ছেলের কপালে কী আছে।”

আইনি সহায়তা ও দেশে ফেরানোর আকুতি

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাহাবুদ্দিন কোনো অপরাধের উদ্দেশ্যে নয়, স্রেফ অসাবধানতাবশত ভিডিওটি শেয়ার করেছিলেন। তাঁকে মুক্ত করে ভারতে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন স্বজনেরা, যদিও এখনো কোনো মেলেনি সুসংবাদ।

তবে প্রবাসী ভারতীয় শ্রমিকদের সহায়তায় নিয়োজিত কয়েকটি মানবিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মী সাহাবুদ্দিনের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। তাঁকে মুক্ত করতে এবং ভারতীয় কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য ইতোমধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে। এখন শুধুই পথচেয়ে বসে থাকা—কখন কাটবে এই অনিশ্চয়তা, আর কবে ভিটেয় ফিরবেন মুর্শিদাবাদের ঘরের ছেলে সাহাবুদ্দিন।

এনএন/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language