পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত কলোনিতে পানির সংকট, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূলের সাংসদ

তৃণমূলের সাংসদ

কলকাতা, ১০ অক্টোবর- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি মুসলিম অধ্যুষিত কলোনিতে কয়েক মাস ধরে সুপেয় পানির সংকট চলছে বলে অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দাদের পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠিটি প্রকাশ করে সমীরুল ইসলাম দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জ্যোতি নগর কলোনিতে সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কলোনির বাসিন্দারা মুসলিম এবং বিজেপির ভোটব্যাংকের অংশ নন বলেই তাঁদের পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো চিঠিতে সমীরুল ইসলাম এই ঘটনাকে মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত রাখার বিষয়টিকে শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা সাধারণ নাগরিক সেবার সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পানীয় জল এবং পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা মানুষের স্বীকৃত মানবাধিকারের অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এসব সুবিধা না থাকায় কলোনির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং মানসম্মত জীবনযাপনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সমীরুল ইসলাম বলেন, কলোনির বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছেন না। তাঁরা শুধু বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য পানির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।

পানির সংকট অব্যাহত থাকলে এলাকায় বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি না পাওয়ায় হাজারো মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চিঠিতে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জ্যোতি নগর কলোনিতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পানির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এস এম/ ১০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language