ফায়ার সার্ভিসে বদলি-পদায়নে নতুন নীতিমালা, একই কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি থাকলে বদলি

ঢাকা,১১ অক্টোবর-ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী একই কর্মস্থলে টানা তিন বছরের বেশি চাকরি করলে তাঁকে বদলি করা যাবে। তবে প্রশাসনিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
গত ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নি-১ শাখা থেকে ‘অগ্নি নির্বাপণ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের কর্মচারীগণের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়।
নীতিমালাটিতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ২০২৩ সালের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা (সংশোধিত ২০২৪) বাতিল করা হয়েছে। অধিদপ্তরের অস্থায়ী ও স্থায়ী পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ বা লিয়েনে নিয়োজিত কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এই নীতিমালার শর্ত প্রযোজ্য হবে।
তবে উন্নয়ন প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক, আউটসোর্সিং বা দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালার শর্ত মানার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, পঞ্চম গ্রেড ও এর ওপরের গ্রেডের কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের বিষয়টি মন্ত্রণালয় নিষ্পত্তি করবে। আর ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পালন করবে অধিদপ্তর। বদলির আবেদন বিবেচনার সময় জ্যেষ্ঠতা, শৃঙ্খলা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
১২তম ও এর ওপরের গ্রেডের কোনো কর্মচারীকে নিজ জেলায় বদলি বা পদায়ন করা যাবে না। তবে ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিজ উপজেলা বাদ দিয়ে নিজ জেলার মধ্যে স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি কোনো দপ্তর বা স্টেশনে পদায়ন করা যাবে।
নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলায় বদলি করা যাবে। সেখানেও সম্ভব না হলে স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি পার্শ্ববর্তী বিভাগের কোনো দপ্তর বা স্টেশনে বদলি করা যাবে।
একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করলে সাধারণভাবে কর্মচারীদের বদলি করা যাবে। এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং হাওর, দ্বীপ ও চর উপজেলায় স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ দুই বছরের বেশি হলে তাঁদের বদলি বা পদায়নের বিধান রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে এসব মেয়াদসংক্রান্ত শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
স্টেশন অফিসার বা সমমানের পদ থেকে এর ওপরের পদে থাকা কর্মচারীদের নিজ জেলায় বদলি বা পদায়ন করা যাবে না। তবে মহানগর বা সিটি করপোরেশন এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না। এ ধরনের বদলি বা পদায়ন একজন কর্মচারীর পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার করা যাবে।
জনস্বার্থে বদলির ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় কোনো কর্মচারীকে যেকোনো দপ্তর বা স্টেশনে বদলি বা পদায়ন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ বদলির শর্ত মানতে হবে না। তবে প্রশাসনিক কারণে বদলি করা হলে তিন বছরের মধ্যে বদলি বা পারস্পরিক বদলির জন্য আবেদন করা যাবে না।
নিজস্ব স্বার্থে বদলির ক্ষেত্রেও কিছু বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হলে তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে একই কর্মস্থলে অথবা কাছাকাছি জেলা কিংবা উপজেলায় পদায়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
কোনো কর্মচারী নিজে অথবা তাঁর বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী কিংবা সন্তান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার সুবিধার জন্য উপযুক্ত স্থানে বদলি বা পদায়নের বিষয়টিও অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
অবসরোত্তর ছুটি শুরু হতে ১৩ মাসের কম সময় বাকি থাকলে জনস্বার্থ বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে বদলি অত্যাবশ্যক না হলে, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী দায়িত্ব পালনে অনুপযুক্ত বা অক্ষম বলে বিবেচিত না হলে, তাঁর আবেদন ছাড়া অন্য কর্মস্থলে বদলি করা যাবে না।
পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে অবসরোত্তর ছুটি শুরুর ১৩ মাস আগে নিজ জেলা বা আবেদন করা জেলায় বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এতে জনস্বার্থ ব্যাহত হওয়ার বা প্রশাসনিক অসুবিধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে এসব সুবিধা দেওয়া হবে না।
মানবিক বা অন্য কোনো কারণে বদলি বা পদায়নের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য মহাপরিচালকের কাছে পুরো চাকরিজীবনে অবসর ছাড়া সর্বোচ্চ দুইবার আবেদন করা যাবে।
একই পদে কর্মরত দুজন কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে এবং উভয়ের সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকলে তাঁদের পারস্পরিক বদলির সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে সাধারণ বদলি ও পদায়নের শর্তও অনুসরণ করতে হবে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে জনবলস্বল্পতাসম্পন্ন বিভাগে পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীদের পদায়নের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কর্মস্থল পরিবর্তন করতে হবে। অন্যদিকে, লিয়েন, প্রেষণ বা শিক্ষাছুটি শেষে অধিদপ্তরে যোগ দিলে আগের কর্মস্থল ছাড়া অন্য জায়গায় পদায়ন করতে হবে। শিক্ষাছুটি শেষে ফিরে আসা কর্মচারীদের অর্জিত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অধিদপ্তরের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা দূর করা, বিশেষায়িত ইউনিট পরিচালনা এবং অপারেশনাল ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে কোনো কর্মচারীকে এক বছরের জন্য সংযুক্ত করা যাবে।
জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ এই মেয়াদ আরও সর্বোচ্চ এক বছর বাড়াতে পারবে। তবে প্রশাসনিক শৃঙ্খলাজনিত কারণে বদলি হওয়া কোনো কর্মচারীকে তিন বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা উন্নয়নের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে সংযুক্ত করা যাবে না।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বদলি ও পদায়নের প্রস্তাব অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)-এর মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।
নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে বা কোনো বিষয়ে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এস এম/ ১১ অক্টোবর ২০২৬







