রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের ভয়াবহ হামলা: বাংলাদেশ থেকে সব ফ্লাইট বাতিল, মাস্কাট থেকে ফিরে এলো ইউএস-বাংলা

ঢাকা, ১১ অক্টোবর – সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক রক্তক্ষয়ী হামলার জেরে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট উড্ডয়ন সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, হুতিদের এই ভয়াবহ হামলার কারণে শনিবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত মোট ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইট রয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, শনিবার ঢাকা থেকে রিয়াদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাঝপথেই ওমানের মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং পরবর্তীতে নিরাপদে ঢাকায় ফিরে আসে।
হামলার ভয়াবহতা: নিহত ১২, আহত তিন শতাধিক!
শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিক্ষিপ্ত হুতি মিসাইলের আঘাতে পরিস্থিতি পুরোপুরি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রাণহানি ও হতাহত: এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও মিশর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা রয়েছেন।
বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত: হামলার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্বেগের কারণ: গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে এটি চতুর্থ দফার হামলা। গত বৃহস্পতিবারের হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকে টার্গেট করায় এক পাইলটসহ তিনজন নিহত হয়েছিলেন। হুতি বিদ্রোহীরা আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, কোনো বিমানসংস্থা সৌদির আকাশসীমা ব্যবহার করলে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
গভীর বিশ্লেষণ: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম সংকট!
১. হুতিদের টার্গেটে রিয়াদ বিমানবন্দর: প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। কৌশলগতভাবে রিয়াদ বিমানবন্দরকে এখন নিজেদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে হুতিরা।
২. প্রবাসীদের যাতায়াতে বড় ধাক্কা: মধ্যপ্রাচ্যগামী লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের যাতায়াত এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলের প্রধান রুটগুলোতে এমন হামলা শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক এভিয়েশন সেক্টরে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
৩. নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চাপ: বিমানবন্দরের মতো অতি সংবেদনশীল স্থানে বারবার মিসাইল আঘাত হানায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে সৌদি জোট।
প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কতা ও করণীয়:
ফ্লাইট স্ট্যাটাস চেক করুন: যারা বর্তমানে সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা যাদের ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে, তাঁরা বিমানবন্দর বা নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান পরিস্থিতি নিশ্চিত হয়ে নিন।
অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন: বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ রুটগুলোতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত থেকে বিরত থাকুন।
এনএন/ ১১ অক্টোবর ২০২৬







