কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপূজায় পদপিষ্ট হয়ে নিহত ১৯, গ্রেপ্তার ১২ জন

কলকাতা,১৮ অক্টোবর-কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপূজামণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের প্রথমে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং এসএসকেএম হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের কয়েকজনকে ইএম বাইপাসের পাশে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলোতে স্থানান্তর করা হয়। নিহত ১৯ জনের ময়নাতদন্ত ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই করা হবে বলে জানা গেছে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পূজার আয়োজকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর চোরবাগান পূজামণ্ডপের আশপাশের এলাকায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত এ ধারা কার্যকর থাকবে। এ সময় পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, সভা ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকারের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। কলকাতায় অবস্থানরত ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও একাধিক কর্মসূচি ছিল। রোববার শহরের কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা ছিল তাঁর। তবে এর পরিবর্তে তিনি আহত ব্যক্তিদের দেখতে হাসপাতালে যেতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনার তদন্তে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক এক বিচারপতির নেতৃত্বে এ কমিটি পুরো ঘটনার তদন্ত করবে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকে।
তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে চোরবাগান ক্লাবের একটি পোস্টার প্রকাশ করে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই পোস্টারে চিফ প্যাট্রন হিসেবে দেবদ্বীপ অধিকারীর নাম রয়েছে, যিনি শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পূজা কমিটির চেয়ারম্যান পদে বিজেপির একজন বিধায়কও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এতগুলো মৃত্যুর দায় কে নেবে এবং এ ঘটনার জন্য কে জবাবদিহি করবেন।
তবে দুর্গাপূজামণ্ডপে ভিড়ের কারণে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি কলকাতায় এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপূজায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে সমস্যার কারণে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এতে তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার পর পূজা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০১৫ সালে দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে ৮৮ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা দেখতে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় জমেছিল। এতে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং অন্তত ১১ জন আহত হন। পরে নিরাপত্তার কারণে ওই পূজাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এস এম/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬







