কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক শুরু

কলকাতা, ২০ মে – ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এই সফরের কর্মসূচি নির্ধারিত থাকলেও বৈঠকের মূল ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নিতে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে কলকাতায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, জেআরসি পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।
এছাড়া দিল্লি ও কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি কূটনীতিকরাও এই দলের সাথে যুক্ত হবেন। ভারতের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন। এবারের বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা পুনর্নবীকরণ।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর এই ঐতিহাসিক চুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হবে এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই দুই দেশের মধ্যকার শেষ জেআরসি বৈঠক। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্যারাজ পরিদর্শন করবেন এবং গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ পরিমাপ করবেন।
এরপর কলকাতায় ফিরে তারা মূল বৈঠকে মিলিত হবেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি পানি থাকলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক রেখে বাকিটা বাংলাদেশকে প্রদান করে।
প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজারের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ ৪০ হাজার কিউসেক পায়। এর কম প্রবাহের ক্ষেত্রে উভয় দেশ সমান হারে পানি বণ্টন করে থাকে।
এস এম/ ২০ মে ২০২৬









