ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার করছে ইরান, সতর্ক অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন

তেহরান, ১ মে – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ এবং বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, তেহরান ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন যদি ভবিষ্যতে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের জন্যই ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করতে চাইছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে যে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে সেখানে আলোচনা হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই বৈঠকে প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্পসমূহ এবং ইরানি বন্দরগুলোতে বর্তমান অবরোধের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের বিষয়টিও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই সফরকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে যে, যুদ্ধের আগে ইরান তাদের অনেক অস্ত্র গোপন স্থানে সরিয়ে ফেলেছিল যার ফলে তাদের বিমান ও নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও রাজনৈতিক সমাধানে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।
এনএন/ ১ মে ২০২৬









