ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন আদালত

ওয়াশিংটন, ১ মে – প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত বেশ কিছু কঠোর নীতি বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালত। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নীতিগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া কঠিন করে তোলা হয়েছিল।
গতকাল এক রায়ে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জুলিয়া কোবিক এই নীতিগুলোকে বৈষম্যমূলক ও অবৈধ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বিশ্বের ৩৯টি দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই দেশগুলোর নাগরিকদের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড ও স্থায়ী আবাসনের আবেদন পর্যালোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের অধীনস্থ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস (ইউএসসিআইএস) একটি নতুন নীতি গ্রহণ করে। সেই নীতির আওতায় আংশিক বা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা পাওয়া দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের আবেদন পর্যালোচনার সময় তাদের জাতীয়তাকে একটি নেতিবাচক বিষয় হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়।
এই নীতির প্রতিবাদে ইরান, হাইতি, ভেনেজুয়েলা ও সিরিয়াসহ ২০টি দেশের ২০০ জন নাগরিক বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেন। মামলায় বিবাদী করা হয়েছিল ইউএসসিআইএস-কে।
বিচারক জুলিয়া কোবিক তার রায়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদন পর্যালোচনার স্থগিতাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন এবং কংগ্রেসের নির্দেশের পরিপন্থী।
রায়ে বিচারক ২২ জন বাদীর ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন যারা তাদের ক্ষতির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছিলেন। বাকি ১৭৮ জন বাদীর ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে কি না তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জিম হ্যাকিং এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ইউএসসিআইএস কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া কঠিন করার চেষ্টা করেছিল। ফেডারেল আদালতের এই রায়ের পর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এনএন/ ১ মে ২০২৬









