জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে কঠোর আইন আনছে কানাডা

অটোয়া, ১৪ জুন – জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন একটি আইন প্রস্তাব করেছে কানাডা সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নতুন শুল্ক আরোপের হুমকির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার কানাডার পার্লামেন্টে বিল সি ৩৫ নামে প্রস্তাবিত এই আইনটি উত্থাপন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আননডের সংসদীয় সচিব রব এলিফ্যান্ট। অলিফ্যান্ট এই বিলটিকে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যার মোকাবিলায় কানাডীয় সমাধান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রস্তাবিত আইনে এমন সব পণ্যের একটি সার্বজনীন তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা থাকবে যেগুলো নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কানাডার দূতাবাস, গোয়েন্দা তথ্য এবং অন্যান্য সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
নতুন আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত অঞ্চল থেকে কোনো পণ্য আমদানি করা হলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকেই প্রমাণ করতে হবে যে পণ্যটি জোরপূর্বক শ্রম বা আধুনিক দাসত্বের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়নি। বর্তমানে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং এলোমেলো বাছাইয়ের মাধ্যমে কনটেইনার পরীক্ষা করে থাকে।
তবে নতুন আইন কার্যকর হলে সীমান্ত কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের তালিকা ধরে আরও সুনির্দিষ্টভাবে তল্লাশি চালাতে পারবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই আইন কানাডাকে মেক্সিকো এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রস্তাবিত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে।
অলিফ্যান্ট জানান যে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি সস্তা পণ্য কানাডার বাজারে আসুক তা তারা চান না। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি অফ কানাডার পররাষ্ট্রবিষয়ক সমালোচক মাইকেল চং এই বিলটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তবে তিনি মনে করেন সরকারের এমন পদক্ষেপ আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। প্রস্তাবিত বিলটি এখন সংসদীয় পর্যালোচনা এবং জনপরামর্শের মধ্য দিয়ে যাবে।
এস এম/ ১৪ জুন ২০২৬









