জানা-অজানা

ঘরে বসেই অনলাইনে জমির পর্চা খুঁজে সংগ্রহের আবেদন করবেন যেভাবে

জমির পর্চা

ঢাকা,০৭ নভেম্বর- জমির মালিকানা যাচাই, কেনাবেচা কিংবা আইনি জটিলতা—বিভিন্ন প্রয়োজনে জমির কাগজপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব নথির মধ্যে দলিলের পাশাপাশি পর্চাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগে জমির পর্চা সংগ্রহ করতে ভূমি অফিসে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। তবে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে জমির পর্চা খোঁজা এবং তা সংগ্রহের জন্য আবেদন করা যায়।

জমির পর্চা কী, কেন এটি প্রয়োজন, অনলাইনে কীভাবে খুঁজতে হয় এবং সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের নিয়ম কী—এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

জমির পর্চা কী?

জমির পর্চা হলো খতিয়ানের একটি অনুলিপি বা কপি। এতে জমির মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ থাকে। জমি কেনাবেচা, ব্যাংকঋণ নেওয়া, নামজারি বা মিউটেশন এবং জমিসংক্রান্ত বিরোধের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পর্চা গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ জমির পর্চা?

জমির মালিকানা ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পর্চার প্রয়োজন হয়। জমি কেনার আগে প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, ব্যাংকঋণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা কিংবা আদালতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগে। তাই জমির অন্যান্য কাগজপত্রের পাশাপাশি পর্চাও যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা জরুরি।

অনলাইনে জমির পর্চা খুঁজবেন যেভাবে

তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধায় এখন ঘরে বসেই অনলাইনে জমির পর্চা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এ জন্য নির্দিষ্ট মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা জমির মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে।

পর্চা খুঁজতে প্রথমে ই-পর্চা (ePorcha) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করতে হবে। সবশেষে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা জমির মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করলে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ানের তথ্য দেখা যাবে।

পর্চা পেতে যেসব তথ্য লাগবে

অনলাইনে জমির পর্চা খুঁজতে ও আবেদন করতে সাধারণত যেসব তথ্য প্রয়োজন হয়, সেগুলো হলো—

বিভাগের নাম, জেলার নাম, উপজেলার নাম, মৌজার নাম, খতিয়ান নম্বর অথবা দাগ নম্বর, জমির মালিকের নাম, আবেদনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং সচল মোবাইল নম্বর।

এ ছাড়া অনলাইনে নির্ধারিত ফি পরিশোধের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হলে সহজেই সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

সার্টিফাইড পর্চার কপি পাবেন যেভাবে

জমির খতিয়ান খুঁজে পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী সার্টিফাইড কপির জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে নিয়ম অনুযায়ী সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করা যাবে। এটি অনলাইনে ডাউনলোড করার পাশাপাশি ডাকযোগে নির্ধারিত ঠিকানায় পাওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

জমিসংক্রান্ত আইনি কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ অনলাইন তথ্যের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্চা ও খতিয়ানের মধ্যে পার্থক্য কী?

খতিয়ান হলো জমির স্বত্বলিপি বা রেকর্ড অব রাইটস। এতে জমির মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, পরিমাণ, মালিকের অংশ এবং খাজনাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ থাকে।

অন্যদিকে, পর্চা হলো ওই খতিয়ানের অনুলিপি বা কপি। জমির তথ্য যাচাই কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে খতিয়ানের তথ্য ব্যবহারের জন্য পর্চা সংগ্রহ করা হয়।

অর্থাৎ, খতিয়ান হলো জমির মূল রেকর্ড, আর পর্চা হলো সেই রেকর্ডের কপি। জমির মালিকানা ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু পর্চা থাকলেই জমির চূড়ান্ত মালিকানা প্রমাণিত হয় না। এ জন্য দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও যাচাই করা প্রয়োজন।

এস এম/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language