জানা-অজানা

বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট কীভাবে পাবেন

বিদেশে গাড়ি চালানোর জন্য বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও International Driving Permit
বিদেশে গাড়ি চালানোর আগে গন্তব্য দেশের আইন এবং গাড়ি ভাড়া কোম্পানির নথির শর্ত যাচাই করা জরুরি।

বিদেশে গিয়ে গাড়ি ভাড়া করা বা নিজে গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা থাকলে শুধু বাংলাদেশের জাতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স সব দেশে যথেষ্ট নাও হতে পারে। অনেক দেশে জাতীয় লাইসেন্সের সঙ্গে International Driving Permit (IDP) বা আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট বহন করতে হয়।

এটি আলাদা কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়। আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট মূলত আপনার বৈধ জাতীয় লাইসেন্সের তথ্য ও গাড়ির শ্রেণিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বোঝার মতো একটি নির্ধারিত ফরম্যাটে উপস্থাপন করে। তাই বিদেশে গাড়ি চালানোর সময় মূল বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সটিও সঙ্গে রাখতে হয়।

বাংলাদেশে অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট কে দেয়?

বাংলাদেশে অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট ইস্যু করার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হলো Automobile Association of Bangladesh (AAB)। AAB বর্তমানে 1949 Geneva Convention অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট ইস্যু করে। বাংলাদেশ এই কনভেনশনের সদস্য।

আবেদন করার জন্য আপনার একটি বৈধ BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। AAB-এর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার তারিখে লাইসেন্সের অন্তত এক মাস মেয়াদ থাকতে হবে। লাইসেন্স অনলাইনে যাচাই করা না গেলে BRTA অফিস থেকে সত্যায়নও লাগতে পারে।

আবেদন করতে কী কী লাগে?

সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়:

  • পূরণ করা আবেদনপত্র;
  • বৈধ BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি;
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;
  • পাসপোর্টের তথ্যপাতার কপি;
  • দুই কপি স্ট্যাম্প সাইজ এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

আবেদনের তথ্য BRTA লাইসেন্স অনুযায়ী ইংরেজি বড় অক্ষরে পূরণ করতে হয়। আপনি যে গাড়ির শ্রেণির লাইসেন্স বাংলাদেশে পেয়েছেন, আন্তর্জাতিক পারমিটেও সেই শ্রেণিই থাকবে—নতুন কোনো মোটরসাইকেল বা গাড়ির শ্রেণি যোগ করা যায় না।

AAB-এর নিয়মিত, জরুরি, এক্সপ্রেস এবং দ্রুততর সেবা রয়েছে। 2026 সালে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিটের ফি-এর সঙ্গে 15% সরকারি VAT প্রযোজ্য, তাই আবেদন করার আগে AAB-এর সর্বশেষ ফি দেখে নেওয়া ভালো।

আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট আসলে কী কাজে লাগে?

একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট বিদেশি পুলিশ, গাড়ি ভাড়া কোম্পানি বা অন্য কর্তৃপক্ষকে আপনার জাতীয় লাইসেন্সের তথ্য সহজে বুঝতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বাংলা ভাষার লাইসেন্স নিয়ে এমন দেশে গাড়ি চালালে এটি কাজে আসে যেখানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আপনার লাইসেন্সের সব তথ্য সরাসরি পড়তে পারে না।

তবে আন্তর্জাতিক পারমিট কখনোই বাংলাদেশের জাতীয় লাইসেন্সের বিকল্প নয়। পুলিশ বা গাড়ি ভাড়া কোম্পানি চাইলে আপনাকে দুইটি নথিই দেখাতে হতে পারে।

এ কারণে ভ্রমণের আগেই গন্তব্য দেশের নিয়ম এবং যে গাড়ি ভাড়া কোম্পানি ব্যবহার করবেন তাদের শর্ত আলাদা করে পরীক্ষা করা উচিত।

কোন কোন দেশে বাংলাদেশি চালকদের আন্তর্জাতিক পারমিট দরকার?

নিয়ম দেশভেদে আলাদা। একই অঞ্চলের দুইটি দেশেও সম্পূর্ণ ভিন্ন শর্ত থাকতে পারে। জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জাপানে বাংলাদেশি লাইসেন্স নিয়ে পর্যটক হিসেবে গাড়ি চালাতে 1949 Geneva Convention অনুযায়ী ইস্যু করা আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট এবং মূল জাতীয় লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হয়। থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশি পর্যটকের জন্য 1949 ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক পারমিট নেওয়া নিরাপদ ও আইনগতভাবে সঠিক পদ্ধতি।

দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইউরোপের কিছু দেশে গাড়ি ভাড়ার সময়ও আন্তর্জাতিক পারমিট বা স্বীকৃত অনুবাদ চাওয়া হতে পারে। ইতালি বা স্পেনের মতো দেশে শুধু একটি বাংলাদেশি লাইসেন্স দেখিয়ে গাড়ি নেওয়ার ওপর নির্ভর না করে যাত্রার আগে সরকারি নিয়ম এবং ভাড়া কোম্পানির শর্ত যাচাই করা উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো—একটি দেশের আইন আন্তর্জাতিক পারমিট না চাইলেও গাড়ি ভাড়া কোম্পানি নিজস্ব নিয়মে সেটি চাইতে পারে।

অনলাইনে কি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং ডকুমেন্ট পাওয়া যায়?

বাংলাদেশের অফিসিয়াল International Driving Permit পেতে হলে AAB-এর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কোনো বেসরকারি অনলাইন নথিকে AAB-এর সরকারি পারমিট হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

তবে আপনার যদি দ্রুত একটি বহুভাষিক, মানসম্মত ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুবাদ দরকার হয়, তাহলে অনলাইনে ড্রাইভিং ডকুমেন্ট অর্ডার করা যায়। এ ধরনের নথি জাতীয় লাইসেন্সের তথ্য আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে উপস্থাপন করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু যেখানে আইন স্পষ্টভাবে সরকারি IDP চায় সেখানে এটি AAB-এর ইস্যু করা অফিসিয়াল পারমিটের বিকল্প নয়।

বিশেষ করে জাপানের মতো দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভ্রমণের আগে কী করবেন?

গাড়ি ভাড়া করার আগে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করুন: আপনার BRTA লাইসেন্স বৈধ কি না, গন্তব্য দেশ কোন ধরনের আন্তর্জাতিক পারমিট গ্রহণ করে এবং আপনার ভাড়া কোম্পানি অতিরিক্ত কোনো নথি চায় কি না।

যদি একাধিক দেশে গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা থাকে, যাত্রার আগেই আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট তৈরি করা বেশি সুবিধাজনক। বিদেশে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নথি নেই বুঝতে পারলে গাড়ি ভাড়া বাতিল হওয়া বা আপনার পরিকল্পিত রোড ট্রিপ পরিবর্তন করার ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশি চালকের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম হলো: মূল BRTA লাইসেন্স সব সময় সঙ্গে রাখুন, আর যে দেশে আন্তর্জাতিক পারমিট প্রয়োজন সেখানে যাত্রার আগেই সঠিক 1949 Geneva Convention পারমিট সংগ্রহ করুন।




FAQ

১. বাংলাদেশ থেকে International Driving Permit কোথায় পাওয়া যায়?

বাংলাদেশে AAB-এর মাধ্যমে IDP ইস্যু করা হয়। AAB ১৯৪৯ সালের Geneva Convention-এর আওতায় IDP ইস্যু করে।

২. IDP থাকলে কি বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে না?

না। IDP মূল জাতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরিপূরক নথি। বিদেশে গাড়ি চালানোর সময় মূল বৈধ লাইসেন্সও সঙ্গে রাখতে হবে।

৩. IDP করতে কী কী কাগজ লাগে?

AAB-এর বর্তমান প্রকাশিত নির্দেশনায় BRTA লাইসেন্সের কপি, NID, পাসপোর্টের তথ্যপাতা এবং নির্দিষ্ট আকারের ছবি চাওয়া হয়েছে।

৪. ২০২৬ সালে IDP-এর ওপর VAT আছে কি?

হ্যাঁ। AAB ২ জুলাই ২০২৬-এ জানিয়েছে, IDP ইস্যুর ফি-এর সঙ্গে ১৫% সরকারি VAT প্রযোজ্য।

৫. জাপানে কোন IDP গ্রহণযোগ্য?

JAF-এর তথ্য অনুযায়ী, জাপানে ১৯৪৯ সালের Geneva Convention-এর অধীনে ইস্যু করা IDP গ্রহণযোগ্য; ১৯৬৮ Vienna Convention-এর IDP সেখানে গাড়ি চালানোর জন্য বৈধ নয়।

৬. সব দেশে কি IDP বাধ্যতামূলক?

না। নিয়ম দেশভেদে পরিবর্তিত হয়। কোথাও জাতীয় লাইসেন্স বা অনুমোদিত অনুবাদ গ্রহণযোগ্য হতে পারে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট ধরনের IDP দরকার হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নিয়ম এবং গাড়ি ভাড়া কোম্পানির শর্ত যাচাই করা জরুরি।

Back to top button
🌐 Read in Your Language