আজ বিশ্ব তরমুজ দিবস: জেনে নিন এই ফলের ইতিহাস ও বিস্ময়কর গুণাগুণ

আজ ৩ আগস্ট, বিশ্ব তরমুজ দিবস। গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ও রসালো ফল তরমুজের পুষ্টিগুণ, স্বাদ এবং স্বাস্থ্যগত উপকারিতা উদযাপন করতেই প্রতিবছর এই দিনটি পালন করা হয়। শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি ত্বক, চুল এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে তরমুজের ভূমিকা অপরিসীম।
ঐতিহাসিকভাবে তরমুজের চাষাবাদ প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। বিশেষজ্ঞদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে নীল নদ উপত্যকায় প্রথম তরমুজের চাষ শুরু হয়েছিল। মিশরের দ্বাদশ রাজবংশের রাজা তুতানখামেনের সমাধি থেকেও এই ফলের বীজ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাচীন মিশরীয় শিলালিপিতেও বিভিন্ন ধরনের তরমুজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমির বাণিজ্যপথ দিয়ে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তরমুজের বীজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। কালক্রমে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপে এর চাষ ব্যাপকতা পায়।
নবম শতাব্দীর শেষ দিকে চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তরমুজের চাষ শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী এবং শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৩০০টিরও বেশি জাতের তরমুজ উৎপাদিত হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে, যা গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সচেতন ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় এই ফলটি বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া তরমুজে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর এই ফলের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এনএন/ ৩ আগস্ট ২০২৬









