ইন্দোনেশিয়ার নৌবহরে প্রথম বিমানবাহী রণতরী, পুরোনো জাহাজ নিয়ে বাজেট বিতর্ক

জাকার্তা, ১৮ সেপ্টেম্বর- অবশেষে নিজেদের সামরিক বহরে প্রথম বিমানবাহী রণতরী যুক্ত করল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি ইন্দোনেশিয়া।
ইতালির সাবেক যুদ্ধজাহাজটি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে দাবি করছে দেশটির সরকার। তবে বিশাল পরিচালন ব্যয় ও জাহাজটির উদ্দেশ্য নিয়ে এরই মধ্যে দেশের রাজনীতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উত্তর জাকার্তার তানজুং প্রিয়োক বন্দরের একটি নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছায় স্বল্প দূরত্ব থেকে উড্ডয়ন ও উল্লম্বভাবে অবতরণে সক্ষম ৪১ বছরের পুরোনো সাবেক ‘আইটিএস জিউসেপ্পে গ্যারিবালডি’ রণতরীটি।
সেখানে জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজটিকে স্বাগত জানানো হয়। আগামী সপ্তাহে ১৪ শতকের বিখ্যাত মাজাপাহিৎ আমলের সামরিক নেতার নামানুসারে এটিকে ‘কেআরআই গাজা মাদা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীতে কমিশন করা হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব বাড়াতে গত মার্চ মাসে ইতালি ২০২৪ সালে অবসরে পাঠানো রণতরীটি ইন্দোনেশিয়াকে উপহার দিতে সম্মত হয়। একদিকে ইতালি ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাবমেরিন ও যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি দ্রুত এগিয়ে নিতে চাইছে, অন্যদিকে পুরোনো জাহাজটি উপহার দেওয়ার মাধ্যমে সেটির ব্যয়বহুল ডিকমিশনিং বা স্ক্র্যাপ করার খরচ থেকেও বেঁচে গেছে রোম।
থাইল্যান্ডের ‘এইচটিএমএস চক্রি নারুয়েবেত’-এর পর দ্বিতীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরীর মালিক হলো ইন্দোনেশিয়া।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সামরিক আধুনিকায়নে ব্যাপক গুরুত্ব দিলেও রণতরীটি ঘিরে বাজেট বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
এর আগে ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের জন্য ৪৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করে। তবে পার্লামেন্টের কমিশন-১-এর সদস্য টিবি হাসানউদ্দিন সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পুরোনো রণতরীকে আধুনিকায়ন ও ব্যবহারের উপযোগী করতেই অন্তত ১৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা প্রায় ৯০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।
বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে একটি পুরোনো জাহাজ সচল রাখতে কেন কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।
অন্যান্য পরাশক্তির নৌবাহিনীর মতো দূরদূরান্তে যুদ্ধবিমান পাঠাতে এই জাহাজ ব্যবহার করবে না ইন্দোনেশিয়া। দেশটি এটিকে মূলত হাজার হাজার দ্বীপজুড়ে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও সামুদ্রিক অভিযানের জন্য একটি ভাসমান কমান্ড সেন্টার এবং সহায়তা হাব হিসেবে দেখছে।
চলতি মাসের শুরুতে একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রাবোও বলেন, জাহাজটি কর্তৃপক্ষকে বন ও পিটল্যান্ডের আগুন মোকাবিলায় সহায়তা করবে। এসব আগুনের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে নিয়মিত বিপজ্জনক ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়।
এস এম/ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬







