রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হলেই মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ আনোয়ারের

কুয়ালালামপুর, ১৭ সেপ্টেম্বর- মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, তিনি সামরিক জান্তা থেকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংকে তাঁর দেশে আনুষ্ঠানিক সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই আমন্ত্রণ শর্তসাপেক্ষ।
বুধবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হলেই কেবল মিন অং হ্ল অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মিয়ানমার থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০। ইউএনএইচসিআর মনে করে, এসব শরণার্থীর জন্য এখনো নিজেদের দেশোইংকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মিয়ানমার থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০। ইউএনএইচসিআর মনে করে, এসব শরণার্থীর জন্য এখনো নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া নিরাপদ নয়।
তা সত্ত্বেও তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করতে চায় মালয়েশিয়া সরকার। গত মাসে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার কথা জানিয়ে মালয়েশিয়া বলেছে, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। গত এপ্রিলে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হলেও এখনো অনেক দেশ তাঁর সরকারকে স্বীকৃতি দেয়তি মাস, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৫০০ শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।
২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। গত এপ্রিলে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হলেও এখনো অনেক দেশ তাঁর সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।
মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি এবং মোট ১২টি দেশের জোট আসিয়ান—যার বাকি দুটি পর্যবেক্ষক দেশ পূর্ব তিমুর ও পাপুয়া নিউগিনি—মিয়ানমারের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২১ সাল থেকে মিয়ানমারের নেতাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই জোটের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আসিয়ানের মতে, মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধে যে ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেক বেসামরিক নাগরিকের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার জন্য দেশটির সামরিক বাহিনী ব্যাপকভাবে দায়ী। তবে মিয়ানমার শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মিয়ানমারের তৎকালীন জান্তা সরকারের অন্যতম সোচ্চার সমালোচক ছিল মালয়েশিয়া।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আসিয়ানের চার দেশ লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম সফর করেছেন মিন অং হ্লাইং। এছাড়া তিনি চীন, ভারত ও রাশিয়াও সফর করেছেন।
এরপর কি মালয়েশিয়া?
লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, চীন, ভারত ও রাশিয়ার পর কি মালয়েশিয়াও সফর করবেন মিন অং হ্লাইং? বিষয়টি এখন সামরিক জান্তা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইংয়ের ওপরই নির্ভর করছে। কারণ আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, আসিয়ান জোটের মতো মালয়েশিয়াও মিয়ানমারের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত নয়।
তবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার জন্য এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকা দরকার, যার সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে কথা বলা যায়। তাই ‘আসিয়ানের মতোই আমরাও মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রাখতে চাই না’ বললেও এরপরই আনোয়ার ইব্রাহিম প্রশ্ন রাখেন, ‘তাহলে আমরা কার সঙ্গে আলোচনা করব?’
মিন অং হ্লাইংকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এটা বোঝাতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি যে, আমরা বন্ধু হতে পারি, বাণিজ্য করতে পারি এবং মিয়ানমারকে, ‘আমার মতে, মিয়ানমারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে কেবল চিৎকার-চেঁচামেচি করার চেয়ে এটিই শ্রেয়তামেচির চেয়ে কূটনীতি গ্রহণ করতে পারি, কিন্তু মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের (শরণার্থীদের) ফিরিয়ে নিতে হবে।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার মতে, মিয়ানমারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে কেবল চিৎকার-চেঁচামেচি করার চেয়ে এটিই শ্রেয়তর কূটনীতি। তাদের কে নেবে? আমরা তাদের কোথায় পাঠাব? তাদের তো মিয়ানমারের নাগরিকত্বও নেই।’
‘চিৎকার-চেঁচামেচির চেয়ে কূটনীতি ভালো’
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশার কথা স্বীকার করে তাঁদের প্রতি সহানুভূতি জানালেও আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে পারবে না। তাই ‘তাদের দেশে ফেরত পাঠানো প্রয়োজন।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার ইতিমধ্যে ৫ হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তাদের দেশে ফেরানোর খরচ মালয়েশিয়া বহন করবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও বেশি শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার মতে, মিয়ানমারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে কেবল চিৎকার-চেঁচামেচি করার চেয়ে এটিই শ্রেয়তর কূটনীতি। তাদের কে নেবে? আমরা তাদের কোথায় পাঠাব? তাদের তো মিয়ানমারের নাগরিকত্বও নেই।’
মিন অং হ্লাইংয়ের সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে আমরা কোনো আলোচনা করিনি, কারণ, আমরা তাদের স্বীকৃতি দিইনি। কোনো কারণ ছাড়াই আমরা তাদের স্বীকৃতি দেব না বা আলোচনা করব না।’
এস এম/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬







