উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনে সংস্কারের ইঙ্গিত স্যাটেলাইট ছবিতে

পিয়ংইয়ং, ১৬ সেপ্টেম্বর- বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটে ধারণ করা সাম্প্রতিক ছবিতে উত্তর কোরিয়ার প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনটিকে সিনফো সাউথ শিপইয়ার্ডের ড্রাই-ডকে দেখা গেছে। সাবমেরিনটি পারমাণবিক শক্তিতে পরিচালিত। ছবিতে দেখা অবস্থার ভিত্তিতে ধারণা সাবমেরিনটি উত্তর কোরিয়ার প্রচলিত সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা তৈরির প্রাথমিক পর্য কোরিয়া যে সাবমেরিনভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছে, সেগুলোর তুলনায় গোরি শ্রেণির সাবমেরিনটি আকারে ছোট এবং সক্ষমতার দিক থেকেও পিছিয়ে। তবে গত এক দশকে দেশটির সাবমেরিন নির্মাণ সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্ম করা হচ্ছে, এতে সংস্কার বা আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
গোরি শ্রেণির একমাত্র এই সাবমেরিনটি উত্তর কোরিয়ার প্রচলিত সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের একটি প্রকল্পের অংশ। ২০১৬ সালে প্রথমবার এই সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
মঙ্গলবার প্রকাশিত মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া যে সাবমেরিনভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছে, সেগুলোর তুলনায় গোরি শ্রেণির সাবমেরিনটি আকারে ছোট এবং সক্ষমতার দিক থেকেও পিছিয়ে। তবে গত এক দশকে দেশটির সাবমেরিন নির্মাণ সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণেও দেশটি এগিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এপ্রিলের শেষ দিকে ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, ড্রাই-ডকটি আড়াল করে রাখা জাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলে সেখানে থাকা ‘৮.২৪ ইয়ংগুন’ নামের সাবমেরিনটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে সাবমেরিনটিকে নিরাপত্তাবেষ্টিত নৌযান রাখার এলাকায় একটি সহায়ক জাহাজের পাশে দেখা যায়। এসব গতিবিধি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সাবমেরিনটি শিপইয়ার্ডের ড্রাই-ডকে কিছু সময় অবস্থান করেছিল। তবে সেখানে ঠিক কী ধরনের সংস্কার বা আধুনিকায়নের কাজ করা হয়েছে এবং কাজের পরিমাণ কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আগে ধারণা করা হতো, সাবমেরিনটি মূলত পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং এটিকে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত সাবমেরিন হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল না। তবে বর্তমানে এর সংস্কারে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত দিতে পারে যে, উত্তর কোরিয়া এটিকে সক্রিয় সামরিক সেবায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমবারের মতো দেশটির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে সাবমেরিনটিকে নির্মাণাধীন অবস্থায় দেখা যায়। এর ধারণক্ষমতা ৮ হাজার ৭০০ টন বলে জানানো হয়। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্র জানিয়েছিল, উত্তর কোরিয়া তার প্রথম পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণ শুরু করেছে। এ ধরনের সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই উত্তর কোরিয়ার সরকারি সূত্রগুলো বিভিন্ন তথ্য দিয়ে আসছিল।
গোরি শ্রেণির সাবমেরিনে চালানো পরীক্ষাগুলো উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিনভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব পরীক্ষার মধ্যে বিভিন্ন প্রজন্মের সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টাও ছিল। তবে পুরোনো এই সাবমেরিনটি ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে, নাকি সংস্কারের পর আরও সক্রিয় সামরিক ভূমিকা পালন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার সক্ষমতা অর্জনকে পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে আসছে। কারণ, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার কাছাকাছি পৌঁছেছিল এবং বড় ধরনের পারমাণবিক হামলার বিষয়ও বিবেচনা করেছিল।
২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উত্তর কোরিয়ায় হামলার পক্ষে ছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে পেন্টাগনের সতর্কবার্তার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে ব্যাপক পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এতে লাখো কোরীয় নিহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় ক্ষেত্রেই উত্তর কোরিয়ার পাল্টা হামলার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে ভূমিকা রেখেছিল। শক্তিশালী সাবমেরিনভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন করলে তা উত্তর কোরিয়ার প্রচলিত সামরিক শক্তি এবং স্থলভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হবে।
এস এম/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







