সম্পাদকের পাতা

কুইবেকের ভিয়াউ আসনে প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আফরুজা হোসাইন

নজরুল মিন্টো

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আফরুজা হোসাইন

কানাডার প্রাদেশিক রাজনীতিতে যুক্ত হলেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী। আগামী ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় কুইবেকের প্রাদেশিক নির্বাচনে মন্ট্রিয়লের ভিয়াউ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আফরুজা হোসাইন। তিনি Canadian Party of Quebec বা Parti canadien du Québec-এর প্রার্থী হিসেবে কুইবেকের জাতীয় পরিষদের সদস্য হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন।

কুইবেক নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় ভিয়াউ আসনে আফরুজা হোসাইনের নাম রয়েছে। তাঁর নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্বামী মোহাম্মদ মোরসালীন, যিনি নিপু নামে পরিচিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর প্রার্থিতার খবর জানিয়ে সবার শুভকামনা ও সহযোগিতা চেয়েছেন।

মন্ট্রিয়লের ভিয়াউ আসনটি মূলত সেন্ট-মিশেল ও ফ্রাঁসোয়া-পেরো এলাকার একটি অংশ নিয়ে গঠিত। জারি, জ্যঁ-তালোঁ, পাপিনো ও পি-নেফের আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো এই নির্বাচনী অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাসের কারণে ভিয়াউ মন্ট্রিয়লের অন্যতম বৈচিত্র্যময় জনপদ। অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন সমস্যা, আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান এখানকার নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আফরুজা হোসাইন জানিয়েছেন, মানুষের কথা শোনা এবং তাঁদের উদ্বেগ ও প্রয়োজন বোঝাই হবে তাঁর রাজনৈতিক কাজের ভিত্তি। পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্য কুইবেকের জাতীয় পরিষদে পৌঁছে দিতে চান তিনি।

সংখ্যালঘুদের অধিকার, আদিবাসীদের অধিকার, ভাষাগত অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, দ্বিভাষিকতা এবং কানাডার জাতীয় ঐক্য তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রধান বিষয়। বহু ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ নিয়ে গড়ে ওঠা ভিয়াউয়ের মতো এলাকায় এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আফরুজা যে Canadian Party of Quebec-এর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেটি কুইবেকের একটি প্রাদেশিক রাজনৈতিক দল। ২০২২ সালে গঠিত দলটি কুইবেককে ঐক্যবদ্ধ কানাডার অংশ হিসেবে শক্তিশালী রাখার পক্ষে। ইংরেজি ও ফরাসি দুই ভাষাকে সম্পদ হিসেবে দেখা, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠাকে দলটি তাদের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছে। দলটির বর্তমান নেতা জোসেফ সিয়ানফ্লোন।

ভিয়াউ দীর্ঘদিন ধরে কুইবেক লিবারেল পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে লিবারেল প্রার্থী ফ্রান্টজ বেঞ্জামিন ৮ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন। তাঁর ভোটের হার ছিল ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী Québec solidaire-এর রেনে-শান্তাল বেলিঙ্গা পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৪১৮ ভোট। এবারের নির্বাচনে আফরুজাকে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

নতুন ও তুলনামূলক ছোট একটি দলের প্রার্থী হিসেবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে ভিয়াউয়ের বহুজাতিক জনবিন্যাস তাঁর জন্য মানুষের কাছে পৌঁছানোর নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে। স্থানীয় পরিবারগুলোর সমস্যা বোঝা, বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশাকে নির্বাচনী আলোচনায় নিয়ে আসতে পারলে তাঁর প্রচার আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারীর কুইবেকের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ কমিউনিটির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রবাসে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রার্থী হওয়া, জনসমক্ষে কথা বলা, নীতিগত আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করাও ভবিষ্যতের পথ খুলে দেয়। বিশেষ করে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মকে জনসেবায় এগিয়ে আসার সাহস জোগায়।

কানাডার বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লেও কুইবেকে এই উপস্থিতি এখনো সীমিত। ভাষাগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এ প্রদেশে মূলধারার রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়া তুলনামূলক কঠিন। সেই জায়গা থেকে আফরুজা হোসাইনের প্রার্থিতা বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন সংযোজন।

আগামী ৫ অক্টোবর কুইবেকের ১২৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। সেই নির্বাচনে ভিয়াউয়ের ভোটাররা তাঁদের পরবর্তী প্রাদেশিক প্রতিনিধি বেছে নেবেন। আফরুজা হোসাইন এখন সেই জনরায়ের অপেক্ষায়। জয়-পরাজয়ের হিসাব পরে, আপাতত তাঁর এই অংশগ্রহণই প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরেক ধাপ সামনে নিয়ে গেছে।

তথ্যসূত্র:
Élections Québec
Canadian Party of Quebec

Back to top button
🌐 Read in Your Language